ঢাকা, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
বৈঠকের পর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ‘এক্স’-এ জানায়, পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী মহল এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন হাইকমিশনার। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আলোচনায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় যোগাযোগকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা, স্থলবন্দরগুলির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং স্থলপথে সুতো আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর উপায় নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে।
সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুক্তাদির জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন বাধার কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা ধীর হয়েছে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ইউএনবিকে তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সমস্যাগুলি কীভাবে দূর করা যায় এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যকে আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মুক্তাদির আরও জানান, চিনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুক্তাদির।
অন্যদিকে, দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশের মানুষই উন্নয়ন ও অগ্রগতি চান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনও দেশই অন্য দেশের তুলনায় বড় বা ছোট নয়। তাই দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে সমতা।
অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে।



















