মস্কো, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব ধারাবাহিকভাবে স্থিতিস্থাপকতা ও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সোমবার মস্কোয় ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক, টেকনোলজিক্যাল অ্যান্ড কালচারাল কো-অপারেশনের (আইআরআইজিসি-টিইসি) ২৭তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমাগত গভীর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।”
তিনি বলেন, শেষ বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের নেতারা বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট দিশা দিয়েছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
জয়শঙ্কর জানান, গত পাঁচ বছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য বাণিজ্য চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সতর্ক করেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতি ৬.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করাই বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
জয়শঙ্কর বলেন, বছরের পর বছর ধরে আইআরআইজিসি-টিইসি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এর অধীনে একাধিক ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং সাব-গ্রুপ কাজ করছে। আগামী দিনে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা আলোচনার সংখ্যার পরিবর্তে বাস্তবে কতটা ফল পাওয়া যাচ্ছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিটি ওয়ার্কিং গ্রুপকে পরবর্তী বৈঠকের আগে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিদেশমন্ত্রী।
ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ওপরও জোর দেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করে মূলত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিই।
ভারত ও রাশিয়ার শিল্পক্ষেত্রের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা এবং আলোচনাকে বাস্তবমুখী করে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ইন্নোপ্রম অনুষ্ঠিত হতে চলাকে এই ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করার ওপরও জোর দেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। অর্থনৈতিক চাহিদা এবং প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তাও এই প্রক্রিয়াকে আরও প্রভাবিত করবে।
বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভকে বৈঠকের সহ-সভাপতিত্ব করার জন্য ধন্যবাদ জানান জয়শঙ্কর। তিনি বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেন।
এক্স-এ জয়শঙ্কর জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সার, পারমাণবিক শক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং পরিবহণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিস্তৃত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


















