কলকাতা, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): অন্নপূর্ণা ভান্ডার আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের মাসিক ভাতা পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিক্ষোভের মধ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার ফেসবুক লাইভে মমতা অভিযোগ করেন, অযোগ্যতার কারণ দেখিয়ে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত মহিলাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন তিনি।
মমতা বলেন, মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম ও জাতপাতকে বিবেচনা করছে এবং ভোটের আগে সব মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পালন করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য রাজ্যের মহিলাদের রাস্তায় নেমে কান্নাকাটি করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মা-বোনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে মার্চ মাসেও টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রায় ৭৫ শতাংশ মহিলা এই ভাতা পাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মমতার বক্তব্য, প্রকল্প ঘোষণার সময় কোনও শর্তের কথা বলা হয়নি। কিন্তু এখন আবেদন করতে গেলে যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ না করার কারণ দেখিয়ে অনেককে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি একে ‘সম্পূর্ণ প্রতারণা’ বলে দাবি করেন।
বঞ্চিত মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা প্রতিটি এলাকায় উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করার আহ্বান জানান। সেই তালিকায় মহিলাদের নাম, ঠিকানা এবং যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, সেই কারণ উল্লেখ করতে বলেন তিনি। আগামী দিনে তাঁদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন মমতা।
তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে আপনাদের সঙ্গে আছি। বিজেপিকে সন্ন্যাস না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।
এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্রদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুরের পিছনে বিজেপির মদত রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রছাত্রীকে তাঁরা সম্মান করেন বলেও জানান তিনি।
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, তিনি নিজে কোনও রাজনৈতিক ‘সন্ন্যাস’ নেবেন না। বরং বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে অবসর নেওয়ার পরিস্থিতিতে না পাঠানো পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের চার মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপির ‘আসল চেহারা’ বুঝে গিয়েছেন।
জনগণনা নিয়েও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, জনগণনার আড়ালে ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জনগণনার ফর্মে সই করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মমতা। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ফলে মানুষের সঞ্চিত অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


















