মুম্বই, ১১ জুলাই : মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে শনিবার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল বিরোধী শিবির, বিশেষ করে শিবসেনা (ইউবিটি)। দলের নেতারা তাঁকে “বিশ্বাসঘাতক” এবং “পলাতক” বলে কটাক্ষ করেন।
শুক্রবার একনাথ শিন্ডে অভিযোগ করেন, মুম্বইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নীরব রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশ সরকারের রামমন্দিরে কথিত অর্থ আত্মসাতের বিতর্ক মোকাবিলার ভূমিকাও সমর্থন করেন। এরপরই বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেন, উদ্ধব ঠাকরে সবসময়ই ভগবান রামের নাম স্মরণ করেছেন। শিন্ডেকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর হিন্দুত্ব নিয়ে এত দৃঢ় অবস্থান থাকত, তবে তিনি আড়াই বছর উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ক্ষমতায় ছিলেন কেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয়ে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের হিন্দুত্ব নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।
সাওয়ান্ত আরও বলেন, যিনি একজন “সন্তস্বভাবের মানুষ”-এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দল ছেড়েছেন, তাঁর হিন্দুত্ব নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই।
অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের বর্তমান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, আগে ট্রাস্টের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করা হতো, কিন্তু এখন সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রভাব বেড়েছে।
রাউতের অভিযোগ, আমরা এখনও ওদের সেখানে দুর্নীতি করতে দিচ্ছি না বলেই একনাথ শিন্ডে ক্ষুব্ধ।
মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র নেতা যশবন্ত কিল্লেদার বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে তাঁর আশঙ্কা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কিল্লেদারের দাবি, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের জন্য শিন্ডের বর্তমান মেয়াদে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা শিবসেনা বিধায়ক সদা সর্বঙ্করের উদ্যোগে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, একটি ছোট মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের জন্য এত বিপুল অর্থের প্রয়োজন কেন, বিশেষ করে যখন মন্দির ট্রাস্টের নিজস্ব পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক কাজে অন্যান্য ট্রাস্টকেও অনুদান দেয়। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পেও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী)-র নেতা নাসিম সিদ্দিকি প্রশ্ন তোলেন, একনাথ শিন্ডে যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তাঁর মতে, বর্তমান মন্তব্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তবে যদি সত্যিই কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যথায় ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করা উচিত নয়।
এদিকে, শিবসেনার মুখপাত্র কৃষ্ণা হেগড়ে একনাথ শিন্ডের অভিযোগকে “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেন। রামমন্দিরে দানের অর্থ নিয়ে তদন্ত ও গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের অভিযোগগুলিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
























