নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই (আইএএনএস) : অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রাপ্ত দান ও প্রণামীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দেশব্যাপী সমন্বিত আন্দোলন শুরু করেছে কংগ্রেস। দলটি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত, মন্দিরের তহবিলের ফরেনসিক অডিট এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে।
বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, এই অভিযোগে কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত লাগলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নীরব রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কথিত ব্যর্থতার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে কংগ্রেস।
দলের মুখপাত্র ও সাংসদ পবন খেরা নয়াদিল্লির রাজীব ভবনে জম্মু ও কাশ্মীর কংগ্রেসের নেতা রমন ভাল্লা এবং রবীন্দর শর্মা-র সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, রাম মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান নিয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ দেশের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল-এর উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত কোনও হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। পবন খেরা বর্তমান মন্দির ট্রাস্ট ভেঙে শঙ্করাচার্য, সাধু-সন্ত এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে নতুন ট্রাস্ট গঠনের দাবিও জানান।
অন্যদিকে, লখনউয়ে কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর সিং হুডা ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চম্পত রায় এবং অনিল মিশ্র-সহ কয়েকজনের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন, যদি আর্থিক লেনদেনে কোনও অনিয়ম না হয়ে থাকে, তবে তাঁরা কেন পদত্যাগ করলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে ১১৩ কোটি টাকা এবং একটি পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে ১০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ইন্দোরে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হরিশ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুধু আর্থিক নয়, কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। তিনি এফআইআর দায়ের, দোষীদের গ্রেফতার, অনুদান, প্রণামী, জমি ক্রয় এবং ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ট্রাস্ট পুনর্গঠনের দাবি জানান।
হরিশ চৌধুরী বলেন, ভগবান রাম সমগ্র দেশের, কোনও একটি রাজনৈতিক দলের নন।
কর্নাটকেও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা যায়। বেঙ্গালুরুতে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস. মনোহর-এর নেতৃত্বে কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, অযোধ্যা রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও সোনার অলঙ্কার চুরির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভগবান রামের পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তিকে নিয়ে জনসচেতনতা অভিযান চালানো হয় এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার অভিযুক্তদের রক্ষা করছে। তাঁদের দাবি, রাম মন্দির নির্মাণের নামে সংগৃহীত অনুদানের অপব্যবহার হয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতারও সমালোচনা করেন তাঁরা।
কোয়েম্বাটুরে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এম. পল্লম রাজু অভিযোগ করেন, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময় থেকেই বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ভগবান রামের নাম ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রী নিজেই বেছে নিয়েছেন। কোটি কোটি রামভক্তের উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন মুখ খুলছেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে, ওডিশা প্রদেশ যুব কংগ্রেস ভুবনেশ্বরে “ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ” কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগ, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগসূত্রের তদন্ত এবং প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন হয়।
ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, বারবার প্রশ্নফাঁস, ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগ এবং প্রকৌশল স্নাতকদের মধ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্বের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেন।
























