নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই (আইএএনএস) : সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবার এক অস্বাভাবিক ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেই মামলার সওয়াল করতে আসা এক মামলাকারী শুনানির সময় বিচারপতিদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, আদালতকক্ষে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে জোর করে আদালতকক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
ঘটনাটি ঘটে বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে শুনানির সময়। এই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শুনানির শুরুতেই ওই মামলাকারী লখনউয়ের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) এবং একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান।
বিচারপতি বিশ্বনাথনের বেঞ্চকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছি ওই এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিন। এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়ে বেঞ্চ প্রশ্ন করে, আপনি কি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন? এর জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আমার বলার সব কথা শেষ। সব কিছু নথিভুক্ত রয়েছে।
এরপরই তিনি মামলার নথিপত্র বাতাসে ছুড়ে ফেলেন এবং আদালতকক্ষের মধ্যেই গালিগালাজ শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতিকেও উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা হস্তক্ষেপ করে তাঁকে জোরপূর্বক আদালতকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বিচারপতি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে যে মামলার শুনানি চলছিল, তা এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেও সুপ্রিম কোর্টে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। আইনজীবী রাকেশ কিশোর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দিকে একটি বস্তু ছুড়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রথমে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গাভাই ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, পরে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ফৌজদারি মামলা শুরু করার অনুমতি দেন। তাঁর মতে, এই আচরণ আদালত অবমাননা আইন, ১৯৭১ অনুযায়ী ফৌজদারি আদালত অবমাননার শামিল এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।
পরবর্তী শুনানিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেছিলেন, ঘটনায় তিনি এবং তাঁর সহকারী বিচারপতি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে তাঁরা বিষয়টিকে অতীতের ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ওই আইনজীবীর আচরণকে “সম্পূর্ণ অমার্জনীয়” বলে মন্তব্য করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দেন।
























