বেঙ্গালুরু, ১০ জুলাই (আইএএনএস): স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট বা পিআরসি) ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজের সমালোচনার জবাবে কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কর্নাটক সরকারের পিআরসি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এই ব্যবস্থা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা পাইয়ে দিতে অপব্যবহার হতে পারে। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।
বিজেপির অভিযোগের জবাবে কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খড়গে বলেন, স্থায়ী বাসিন্দা সংক্রান্ত নিয়ম প্রণয়ন এবং পিআরসি ইস্যু করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাজ্য সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার কি স্থায়ী বাসিন্দা সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি করতে পারে না? আমরা নির্বাচিত সরকার এবং রাজ্য পরিচালনা করা আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়। আমরা কংগ্রেস দলের মাধ্যমে নয়, সরকারের পক্ষ থেকেই স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র দিচ্ছি।”
খড়গে আরও বলেন, বিজেপির আপত্তির কারণ আমি বুঝতে পারছি না। আইন অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র দেওয়ার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এই বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কর্নাটক পার্মানেন্ট রেসিডেন্স (পিআরসি), ২০২৬’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সাংবিধানিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে করন্দলজে বলেন, “ভারতের সংবিধান সমগ্র দেশের জন্য একক নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করেছে। কর্নাটক সরকারের ‘স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র’ চালুর উদ্যোগ সেই সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী। কারণ, কোনও সাংবিধানিক বা আইনগত ভিত্তি ছাড়াই এটি ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ নামে একটি
পৃথক শ্রেণি তৈরি করার চেষ্টা করছে।”


















