পাটনা, ১০ জুলাই (আইএএনএস): বিহারের পাটনা জেলার বিহটা থানার অন্তর্গত রঘোপুর গ্রামে একটি টিউবওয়েলের কাছে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে প্রাক্তন রাহু পঞ্চায়েত প্রধান (মুখিয়া) সঞ্জয় কুমার যাদবের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে যাওয়ার সময় টিউবওয়েলের কাছে সঞ্জয় কুমার যাদবের দেহ পড়ে থাকতে দেখে বিহটা থানায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পাটনা থেকে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-র একটি দলও ডাকা হয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সঞ্জয় কুমার যাদবকে খুন করে দেহটি মাঠের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে, যাতে অপরাধের প্রমাণ লোপাট করা যায়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জয় কুমার যাদবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল। একাধিক মামলায় তিনি পলাতকও ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলিগুলির সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্রম-বিহটা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন আগুনও জ্বালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিহটা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (এসএইচও) অমিত কুমার জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক পরীক্ষায় মৃতদেহে স্পষ্ট কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পাটনা এফএসএল দলকেও খবর দেওয়া হয়েছে। এটি খুনের ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সঞ্জয় কুমার যাদবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা ছিল এবং তিনি কয়েকটি মামলায় পলাতক ছিলেন। সব দিক খতিয়ে তদন্ত চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, খুন-সহ সমস্ত সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে, নতুন করে অশান্তি এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


















