কালপেট্টা, ১০ জুলাই (আইএএনএস): কেরলের ওয়ানাড়ে টানেল সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও অস্থিতিশীল মাটির কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল, পুলিশ, বনদফতর এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ অভিযানে সর্বশেষ দেহটি উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপ সরাতে খননযন্ত্র-সহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মীনাক্ষী সেতুর কাছে কাল্লাডি এলাকায় ওয়ানাড় প্রান্তে টানেল সড়ক নির্মাণের কাজ চলাকালীন এই ধস নামে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছয়টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। শুক্রবার আরও একটি দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে কেরলের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সাথীসান ঘোষণা করেছেন, টানেল সড়ক প্রকল্পের সব দিক খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করা হবে। নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না এবং কোনও গাফিলতি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন, যার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন চলতি বছরের শুরুতে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, দাবি করেছেন যে প্রকল্প অনুমোদনের আগে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল।
তবে বিজয়নের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী এ. পি. অনিল কুমার। দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থানরত অনিল কুমার বলেন, “তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এত তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কী প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট আসুক, তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে কেরল হাইকোর্টও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে চলা প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে, এটি শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, নাকি এর পেছনে মানবীয় বা প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল।
























