পুনে, ৯ জুলাই (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের পুনের কাছে পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড়ের মোশি এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের একটি তিনতলা ভবন ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক সংস্থা।
বুধবার দুপুরে ১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর থাকা তিনতলা ভবনটি বিশাল বর্জ্যের স্তূপ ধসে পড়ায় মাটিচাপা পড়ে যায়। ঘটনায় প্রায় ১৮ জন আটকে পড়েন বলে জানা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই সাতজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে মধ্যরাতের পর আরও দু’জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। ফলে জীবিত উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯।
উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে এনডিআরএফের পঞ্চম ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস. বি. সিং জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দু’টি দেহের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা হাতে খুঁড়ে তৈরি করা সরু পথ দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। তবে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনও সময় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের জীবনকেও বিপদের মুখে ফেলতে পারে।
এস. বি. সিং আরও জানান, ভবনটি প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে হেলে পড়ে থাকায় উদ্ধারকারীদের হামাগুড়ি দিয়ে সরু ফাঁক গলে ভেতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে। ভারী যন্ত্র ব্যবহার করলে কম্পনের ফলে আবারও ধস নামতে পারে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর, অ্যাকুস্টিক সেন্সর এবং প্রশিক্ষিত স্নিফার কুকুর ব্যবহার করা হলেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কারও সন্ধান মেলেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনাকারী অ্যান্টনি লারা রিনিউএবল এনার্জি-র একাধিক কর্মী ওই ভবনে আটকে পড়েছিলেন।
উদ্ধার অভিযানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), ভারতীয় সেনাবাহিনী, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভার দমকল বাহিনী, পুনে মহানগর অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দমকল বাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
























