মুম্বই, ৮ জুলাই (আইএএনএস): বনাধিকার আইন (এফআরএ)-এর আওতায় জমি পাওয়া আদিবাসী পরিবারগুলিকে এবার স্বাধীন জমির নথি ও রেজিস্ট্রির অধিকার দেওয়ার ঘোষণা করল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বুধবার বিধানসভার উভয় কক্ষে জানান, এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের দুই লক্ষেরও বেশি আদিবাসী পরিবার উপকৃত হবে।
মন্ত্রী জানান, যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য নতুন ফর্ম ৭ই এবং গ্রাম ফর্ম ১২ই চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বনাধিকার আইনের আওতায় বরাদ্দ জমির জন্য পৃথক সাতবারা উতারা (৭/১২ জমির নথি) প্রদান করা হবে, যাতে জমির মালিক হিসেবে সরাসরি তাঁদের নাম নথিভুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, এতদিন বনজমির পাট্টা অনুমোদিত হলেও সাতবারা নথিতে আদিবাসী কৃষকদের নাম শুধু ‘অন্যান্য অধিকার’ অংশে থাকত। মূল মালিক হিসেবে উল্লেখ থাকত ‘মহারাষ্ট্র সরকার – বন বিভাগ’। ফলে কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, কৃষি দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ পেতে আদিবাসী কৃষকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পৃথক ৭ই ও ১২ই নথি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন ব্যবস্থায় বনজমির পাট্টাধারীদের নামই জমির প্রধান মালিক হিসেবে নথিভুক্ত হবে। পাশাপাশি ওই জমিতে কোন ফসল চাষ হচ্ছে, তার তথ্যও গ্রাম ফর্ম ১২ই-তে লিপিবদ্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে আদিবাসী কৃষকরা অ্যাগ্রিস্ট্যাক (AgriStack)-সহ কৃষি সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সহজে পাবেন। যেসব বনাঞ্চলে গুচ্ছভিত্তিকভাবে বনজমির পাট্টা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ভূমি রেকর্ড দফতর দ্রুত সমীক্ষা চালিয়ে নতুন নথিতে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করবে।
বাওয়ানকুলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার বিধায়কদের নিজ নিজ কেন্দ্রে বৈঠক করে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক দলনেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে-ও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে গ্রাম বনাধিকার কমিটিগুলি পুনর্গঠনের দাবি তোলেন।
এর জবাবে রাজস্বমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নির্দেশে সরকার এই বিষয়েও ইতিবাচক এবং খুব শিগগিরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।



















