কৈলাসহর, ৮ জুলাই : শ্লীলতাহানি এবং অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ফয়দুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঊনকোটি জেলা আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বুধবার বিকেলে ঊনকোটি জেলা আদালতের জেলা বিচারক পি. কুমার এই রায় ঘোষণা করেন।
ঊনকোটি জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর তথা আইনজীবী সুনির্মিল দেব বলেন, দোষী সাব্যস্ত ফয়দুর রহমান কৈলাসহরের ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী। ২০২০ সালে তিনি কৈলাসহর পুরপরিষদের কালিপুর এলাকায় একটি বাড়ির নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তিনি ভুয়া পরিচয়ে নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেন এবং বাড়ির এক মহিলার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকে নিয়মিত ফোন করে উত্যক্ত করতে শুরু করেন।
মহিলা তাঁর নম্বর ব্লক করে দিলে অভিযুক্ত কৌশলে ওই মহিলার ভাসুরের মেয়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকেও নিয়মিত ফোনে উত্যক্ত ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বলে অভিযোগ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ মে ড্রাইভিং স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কালিপুর এলাকায় ওই তরুণীর পথরোধ করে অভিযুক্ত। অভিযোগ, সে তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা করে এবং শ্লীলতাহানিও করে। কোনওরকমে অভিযুক্তের কবল থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান ওই তরুণী।
পরদিন পরিবারের ব্যস্ততার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের সম্ভব না হলেও, ২০২২ সালের ২৭ মে কৈলাসহর মহিলা থানায় ফয়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি কেএলএস/ডাব্লিউপিএস/১৭/২০২২ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। তদন্তভার পান সাব-ইন্সপেক্টর শিবানী দেববর্মা। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
মামলার শুনানিকালে অভিযোগকারী, নির্যাতিতা, এক পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তকারী আধিকারিক শিবানী দেববর্মা এবং অভিযোগপত্র লেখকসহ মোট পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পাবলিক প্রসিকিউটর সুনির্মিল দেব বলেন, তদন্তকারী আধিকারিক শিবানী দেববর্মার নিষ্ঠাবান তদন্ত ও নির্ভুল চার্জশিটের ফলেই আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং অভিযুক্ত শাস্তি পেয়েছে।
























