News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • আইজিএম হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তে মানবাধিকার কমিশন
Image

আইজিএম হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তে মানবাধিকার কমিশন

আগরতলা, ৮ জুলাই: আইজিএম হাসপাতালে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলা গ্রহণ করেছে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন (টিএইচআরসি)। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে কমিশন স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত ৩০ মে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আইজিএম হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান এবং চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন না করে, যে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগে ঘটনাটি ঘটেছে সেই বিভাগের চিকিৎসকদের তৈরি করা রিপোর্টই কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন। এতে ঘটনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছে কমিশন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, অমতলী এলাকার বাসিন্দা পঙ্কজ দেবনাথের স্ত্রী বিভা দেবনাথ (৩৩) গত ২৮ মে পেটব্যথা ও প্রস্রাবের সমস্যার কারণে আইজিএম হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে লোয়ার সেগমেন্ট সিজারিয়ান সেকশন (এলএসসিএস) করার পরামর্শ দেন এবং জরায়ু ফেটে যাওয়া, অপরিণত প্রসব ও মৃত সন্তান জন্মের মতো ঝুঁকির বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়।

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভা দেবনাথ ও তাঁর স্বামী অস্ত্রোপচারের জন্য সম্মতি দেননি এবং ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতালের দাবি, সারা রাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ২৯ মে ভোরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত পুনরুজ্জীবনের (রিসাসিটেশন) পাশাপাশি উন্নত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করা হয়। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে সকাল প্রায় ৬টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, মৃত্যুর পর প্রায় একশো মানুষ প্রসূতি বিভাগের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান, চিকিৎসক ও নার্সদের হুমকি দেন এবং রোগীর বেড-হেড টিকিটসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ছিনিয়ে নেন। পরে পুলিশ কিছু নথি উদ্ধার করলেও সেগুলিও আবার নার্সিং কর্মীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমিশন জানিয়েছে, হাসপাতালের রিপোর্টে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই যে রোগীর অবস্থা সংকটজনক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা হয়নি অথবা অস্ত্রোপচার সম্ভব না হলে বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হয়নি। এই বিষয়গুলি চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে কমিশন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে।

হাসপাতালের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন তাদের তদন্ত শাখাকে স্বাধীনভাবে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী শুনানি হবে এবং চিকিৎসায় গাফিলতি বা রোগীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা কমিশন নির্ধারণ করবে।

Releated Posts

দক্ষিণ ত্রিপুরায় দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে বিশেষ পরিদর্শন, দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ

,বিলোনিয়া, ৮ জুলাই : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বড় পদক্ষেপ নিল দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা রোড সেফটি টাস্ক ফোর্স। জেলার…

ByByTaniya Chakraborty Jul 8, 2026

শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কৈলাসহর, ৮ জুলাই : শ্লীলতাহানি এবং অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ফয়দুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড…

ByByTaniya Chakraborty Jul 8, 2026

খামারবাড়ি রাস্তায় চরম দুর্ভোগ, কাদা-জলে নিত্য ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৮০-৯০ পরিবারের

তেলিয়ামুড়া, ৮ জুলাই : রাস্তা নয়, যেন নরকযন্ত্রণা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও জলমগ্ন হয়ে পড়ছে গোটা রাস্তা। প্রতিদিন…

ByByTaniya Chakraborty Jul 8, 2026

টানা বৃষ্টিতে বেহাল মনাইপাথরের গ্রামীণ সড়ক, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

কাঠালিয়া, ৮ জুলাই: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাঠালিয়া ব্লকের অন্তর্গত মনাইপাথর এডিসি ভিলেজের একাধিক গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা…

ByByReshmi Debnath Jul 8, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top