কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস): কোচবিহারের শীতলকুচিতে গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রুখতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বুধবার আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
মীনাক্ষীর আইনজীবী অভিষেক হালদার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের নজরে মঙ্গলবারের ডিম ছোড়ার ঘটনাটি আনেন। তিনি জানান, শীতলকুচিতে দলের এক মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় মীনাক্ষী মুখার্জির গাড়িতে ডিম ছোড়া হয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নিয়ম মেনে বিষয়টির শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শীতলকুচিতে সিপিআই(এম)-এর মৃত কর্মী মন্টু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি। ফেরার পথে শীতলকুচি বাজার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একদল ব্যক্তি ডিম ছুড়তে শুরু করে। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ অলোকেশ দাস।
সিপিআই(এম)-এর দাবি, মন্টু মিয়ার মৃত্যু খুনের ঘটনা। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলেও পরে তা গ্রহণ করে। পাশাপাশি, মুম্বইয়ে কর্মরত শীতলকুচির এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছে বাম নেতৃত্ব।
মীনাক্ষী মুখার্জি জানিয়েছেন, এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা শাসকের দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি রয়েছে দলের।
হামলার পর মীনাক্ষী মুখার্জি গাড়ির ভেতর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একের পর এক ডিম গাড়ির উইন্ডশিল্ডে এসে পড়ছে।
পরে তিনি কোচবিহার পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সেখানে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন। তাঁর অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যে কি নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করার অধিকারও নেই? এটাই কি আইনের শাসন?”
অন্যদিকে, কোচবিহার জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই ঘটনায় দলের কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিজেপিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
























