গুয়াহাটি, ৭ জুলাই (আইএএনএস): অবৈধ মাদক পাচার এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে মঙ্গলবার ‘গুয়াহাটি ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলি। ঘোষণায় রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী ব্রিকস অ্যান্টি-ড্রাগ এজেন্সিগুলির প্রধানদের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা গৃহীত হয়।
ঘোষণায় সদস্য দেশগুলি নিজ নিজ জাতীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়োপযোগী তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য এবং সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি মাদক পাচার রোধে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং তথ্যভিত্তিক কৌশল ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে কৃত্রিম বা সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার, নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্সেস (এনপিএস)-এর বাড়তি ব্যবহার, মাদক তৈরির রাসায়নিক উপাদানের অপব্যবহার, নতুন প্রযুক্তি ও ভার্চুয়াল সম্পদের অপপ্রয়োগ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের মাধ্যমে সমুদ্রপথ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া মাদকের চাহিদা কমানো, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রসার এবং বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিক তথ্যনির্ভর ও জনকেন্দ্রিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে ব্রিকস দেশগুলি।
ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) মহাপরিচালক অনুরাগ গর্গ। তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মাদকবিরোধী সংস্থাগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ, পারস্পরিক আস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রকে কার্যকরভাবে ভেঙে দেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে ভারতের মাদকবিরোধী কৌশলের উল্লেখ করে গর্গ বলেন, দেশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০২৯ সময়কালের জন্য একটি তিন বছরের রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য অপরাধচক্র ধ্বংস করা, সচেতনতার মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা, নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
সমাপনী বক্তব্যে অনুরাগ গর্গ একটি ব্রিকস ভার্চুয়াল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং সীমান্তপারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, ক্রমশ আন্তঃসংযুক্ত হয়ে ওঠা বৈশ্বিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভাঙতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য।
বৈঠকে ব্রাজিল, চীন, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা ডার্কনেট-নির্ভর মাদক পাচার, ডিজিটাল মাদক নেটওয়ার্ক, রাসায়নিক উপাদানের অপব্যবহার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও সুরক্ষিত করার মতো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য হলো “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই সক্ষমতা গড়ে তোলা”।



















