জাকার্তা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি শতাব্দীপ্রাচীন সভ্যতাগত বন্ধন এবং রামায়ণ-মহাভারতের অভিন্ন ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ইন্দোনেশিয়া শুধু সমুদ্রের মাধ্যমে যুক্ত নয়, আমাদের ইতিহাসও একসূত্রে গাঁথা। রামায়ণ ও মহাভারতের ঐতিহ্যের ওপরই আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। বোরোবুদুর ও প্রামবানানের মতো ঐতিহাসিক স্থাপত্য, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় প্রতীক গরুড় এবং বালি যাত্রা উৎসব আমাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।”
হালকা মেজাজে তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার ‘ক্রুপুক’ বেশি মচমচে, না ভারতের ‘পাপড়’— তা বলা কঠিন। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, দুই দেশের জীবনযাত্রায় মশলা এবং ‘বুম্বু’-র (মশলার মিশ্রণ) গুরুত্ব সমান।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শতাব্দী আগে গুজরাতের ব্যবসায়ী এবং সুফি সাধকেরা সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে ইসলামের ভাবধারা এবং মানবিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “কথিত আছে, বহু শতাব্দী আগে গুজরাতের ব্যবসায়ী ও সুফি সাধকেরা সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় এসেছিলেন। তাঁরা ইসলামের ভাবনা এবং ইসলামী জীবনধারার মূল্যবোধ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, বুধবার তিনি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত প্রামবানান মন্দির পরিদর্শন করবেন। এটি ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল।
সেখানে দুই নেতা যৌথভাবে মন্দির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতীক।
তিনি আরও জানান, “আজ সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এবং আমি এখানে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করব। আগামীকাল প্রামবানানে বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করব। ইতিহাস আমাদের যে ঐতিহ্য উপহার দিয়েছে, তা রক্ষায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ইন্দোনেশিয়ার সংসদ সদস্যদের ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অবশ্যই ভারত সফরে আসুন। পরিবার ও বন্ধুদেরও সঙ্গে নিয়ে আসুন। ভারতের মানুষ আপনাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে।”
পরে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দেওয়া আমার কাছে সম্মানের বিষয়। শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক ভারত ও ইন্দোনেশিয়াকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আমরা ভবিষ্যতের পথে একসঙ্গে এগিয়ে চলব।”


















