নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঠালিয়া, ৭ জুলাই: দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রকল্পের অর্থ না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন উপভোক্তারা। মঙ্গলবার কাঠালিয়া গ্রামীণ ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা ও অসহায় মানুষ ভাতার টাকা পাওয়ার আশায় ব্যাংকের সামনে ভিড় জমিয়েছেন। কিন্তু দিনের শেষে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে অধিকাংশকেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা-সহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থ গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। ফলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই এই ভাতার টাকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা শেফালী মজুমদার জানান, তিনি শুধুমাত্র এই ভাতার টাকার ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন। তিন মাস পেরিয়ে চার মাস হতে চললেও এখনও তার অ্যাকাউন্টে কোনও অর্থ জমা পড়েনি। প্রতিবার ব্যাংকে এসে একই উত্তর শুনতে হচ্ছে। ব্যাংকে যাতায়াত করতেই প্রতিবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা গাড়ি ভাড়া খরচ হচ্ছে, অথচ কোনও সমাধান মিলছে না।
ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে এখনও ভাতার অর্থ জমা পড়েনি। কেন অর্থ আসছে না, সে বিষয়ে ব্যাংকের কাছে কোনও তথ্য নেই। এ ব্যাপারে সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই সমস্যার কথা তুলে ধরেন নিদয়া এলাকার স্বামী-পরিত্যক্তা তুলসী রায়। তিনিও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাতার টাকা না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিবার ব্যাংকে এসেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
কালিখলা এডিসি ভিলেজের বাসিন্দা পদ্মলোচন ত্রিপুরা জানান, গত তিন মাসে শুধু ব্যাংকে আসা-যাওয়ার জন্যই ধার করে প্রায় ৫০০ টাকার বেশি খরচ করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ভাতার অর্থ পাননি। এতে তিনি চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।
দুর্লভ নারায়ণ এলাকার খাগা খাতুনও জানান, বিধবা ভাতার টাকা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে তিনি এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
মঙ্গলবার ব্যাংকের সামনে উপস্থিত বহু উপভোক্তার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ ও হতাশার ছাপ। কেউ বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার বারবার ব্যাংকের কর্মীদের কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। কিন্তু সবারই উত্তর এক, এখনও টাকা আসেনি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বকেয়া ভাতার অর্থ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হোক। অন্যথায় আর্থিক সংকটে থাকা হাজার হাজার অসহায় মানুষ আরও বিপদের মুখে পড়বেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দ্রুত পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।























