জাকার্তা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): ভারত সম্প্রসারণবাদের নয়, বরং উন্নয়নের পথে বিশ্বাসী বলে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ‘কপিরাইট’-এর সব সীমা অতিক্রম করেছে।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা অব দ্য রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া’ প্রদান করার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং সে দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং দুই দেশের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ, যা সম্প্রসারণবাদের নয়, উন্নয়নের পথ অনুসরণ করে। তাই আমরা বলি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’— সকলকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের উন্নয়ন। এই ভাবনাই আমি আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব থাকলেও সমুদ্র আমাদের মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে রেখেছে। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে সমুদ্র বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হলেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্র কখনও বিভেদের প্রতীক নয়, বরং এটি আমাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন এবং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের ভিত্তি।”
এর আগে মঙ্গলবার সকালে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো রসিকতার সুরে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিভিন্ন কর্মসূচির অনুকরণ করেন এবং “এই অগ্রগতিকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে কোনও কপিরাইট নেই” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও কপিরাইটের কথা বলেছিলেন। আমি তাঁকে বলতে চাই, এই ভালোবাসা, এই আন্তরিকতা, এই বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর কারও কপিরাইট থাকতে পারে না। প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব কপিরাইটের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চলতি শতাব্দীর প্রথম ২৫ বছর ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে এবং আগামী ২৫ বছর দুই দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমি আজ ইন্দোনেশিয়ার এই মহান ভূমিতে দাঁড়িয়ে আমাদের যৌথ উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে এসেছি। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একসঙ্গে নতুন উদ্যমে সমগ্র মানবতার সেবায় কাজ করবে।”
এদিন সকালে ইন্দোনেশিয়ার জনগণের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৪০ কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধি এবং ‘গণতন্ত্রের জননী’ ভারতের একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। ইন্দোনেশিয়ার মানুষ, শিশু, যুবক-যুবতী ও মহিলারা আজকের দিনটিকে আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিনে পরিণত করেছেন। আজ সকালে আপনারা যে আন্তরিক ভালোবাসা ও অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তা আমি কোনওদিন ভুলব না।”























