জাকার্তা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য এবং খনিজ সম্পদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতায় সই করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর দুই দেশ তাদের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল সহযোগিতা চুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দুই নেতা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা (এইচএডিআর), দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, এই সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবীকরণ এবং ইন্দোনেশিয়ার বাকামলা ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বাস্তবায়ন চুক্তিকে স্বাগত জানান দুই নেতা।
প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা বৃদ্ধি, জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ (এমআরও) কেন্দ্র গড়ে তোলা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সামরিক ওষুধ সরবরাহে সহযোগিতার অগ্রগতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
দুই নেতা ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘ইন্দোনেশিয়া এমাস ২০৪৫’-এর মধ্যে উন্নয়নমূলক মিলের কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেন।
এই লক্ষ্য পূরণে আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তি-র পর্যালোচনা দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালে ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বিয়েনিয়াল ট্রেড মিনিস্টার্স ফোরাম এবং যৌথ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশ শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা দূর করা, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করা এবং অর্থনীতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থ সম্পদে সহযোগিতা বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে খনিজ ও ইস্পাত সরবরাহ শৃঙ্খলায় সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকেও সই হয়েছে।
ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া-র মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন চালুর প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে স্বাস্থ্যকর্মী উন্নয়ন সংক্রান্ত বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
সমুদ্র ও আকাশপথে যোগাযোগ আরও উন্নত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর উন্নয়নে ভারতের আগ্রহকে স্বাগত জানান।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়াতে ভারতের ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স-এর আদলে ইন্দোনেশিয়ায় ইন্দোনেশিয়া ওপেন নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা।
এছাড়া ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সীমান্ত-পার ডিজিটাল কিউআর পেমেন্ট সংযোগ চালুর দিকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে বৈঠকের পর জানানো হয়েছে।


















