নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই (আইএএনএস): দেশের পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক উন্নয়নের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় সড়ক উন্নয়নে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাকে পেশাগত সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক।
মন্ত্রকের বক্তব্য, বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশ গঠনের সুযোগ বাড়ায় তরুণদের মধ্যে আবারও ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশেষ করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আইআইটি এবং এনআইটি-সহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতি বছর গ্র্যাজুয়েট অ্যাপটিটিউড টেস্ট ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (গেট)-এর মাধ্যমে এনএইচএআই প্রায় ১০০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করে।
মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআইটি, এনআইটি এবং অন্যান্য স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতকেরা ডেপুটি ম্যানেজার পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এটি প্রমাণ করে যে দেশের মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের মধ্যে জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ বাড়ছে।
শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এনএইচএআই আনুষ্ঠানিকভাবে স্ট্রাকচার্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু করে। প্রথমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের জন্য এক মাসের শীতকালীন ইন্টার্নশিপ এবং পরে ছয় মাসের টার্ম ইন্টার্নশিপ চালু করা হয়।
এই ইন্টার্নশিপে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে উঠে এসেছে।
পরে সামার ইন্টার্নশিপ ২০২৬-এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়। এতে বিভিন্ন শাখার ৪২৩ জন ছাত্রছাত্রী এনএইচএআই-এর ১২৫টি ফিল্ড অফিস এবং সদর দফতরের ৫১টি বিভাগে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন।
এই কর্মসূচিতে ৫৯ জন আইআইটি এবং ২৮২ জন এনআইটি-র ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ তরুণ ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহের প্রতিফলন বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
এছাড়া সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির জন্য নির্দিষ্ট ব্যয় কাঠামো চালু করা, যাতে ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবার যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামোর মাধ্যমে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের ডিপিআর এবং প্রকল্প তদারকি পরামর্শদাতা হিসেবে আকৃষ্ট করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।


















