মুম্বই, ৭ জুলাই (আইএএনএস): গত দু’দিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় মহারাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার-এর তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বন্যা ও ভূমিধসের জেরে প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। লোনাভালায় গত ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ড ৬২৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রায়গড়ে ২৩৬ মিমি, থানে ১৬১ মিমি, রত্নগিরিতে ১৫২ মিমি, পালঘরে গড়ে ১৩২ মিমি এবং মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ থেকে ১৬১ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে রাজ্যের একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপরে উঠে গিয়েছে। উলহাস, কালু ও পিঞ্জল নদী সতর্কতামূলক স্তর অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে আম্বা, সাভিত্রী, কুন্দলিকা, পাতালগঙ্গা, জগবুড়ি ও উলহাস নদী বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বদলাপুর, মোহানে ও জাম্ভুলপাড়ায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মুম্বইয়ের মানখুর্দ এলাকায়। সেখানে একটি বহুতল ভবন ভেঙে বস্তির উপর পড়ে যাওয়ায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরতলিতে গাছ ভেঙে পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
থানেতে একটি ভবনের অংশ ভেঙে পড়ে দুই জন আহত হয়েছেন। পালঘর ও সিন্ধুদুর্গে পৃথক দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। সিন্ধুদুর্গে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় ৩০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। সাতারা জেলায় ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চার জন আহত হয়েছেন।
অবিরাম বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কায় মাথেরান, লোনাভালা, খোপোলি এবং লোহাগড়-সহ একাধিক পাহাড়ি এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সেখানে দুটি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দল মোতায়েন করা হয়েছে।
পুণে জেলার মাওয়াল তালুকের পাতন এলাকায় ভূমিধসে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে চার জন আটকে পড়েন। অন্যদিকে তালেগাঁও-দাভাডের কাছে বন্যার জলে ২৫ জন যাত্রী-সহ একটি বাস আটকে পড়লেও এনডিআরএফের তৎপরতায় সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
রায়গড় জেলার সুধাগড় তালুকে ছয় মাসের এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য বন্যার জলে বাড়ির ছাদে আটকে পড়েন। গ্রামের সমস্ত রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা নৌকার সাহায্যে তাঁদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
ভূমিধস ও জল জমে যাওয়ায় রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কাশেদি ঘাটে ভূমিধসের জেরে মুম্বই-গোয়া জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে এবং খোপোলি সড়কেও ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। মাওয়াল ও তামহিনি ঘাট এলাকায়ও ভূমিধস এবং বন্যার কারণে বিকল্প পথে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বাকি অংশ যখন প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত, তখন বিদর্ভ অঞ্চলে এখনও বর্ষার দেখা মেলেনি। ওয়ার্ধা, আকোলা, অমরাবতী, ইয়াভতমাল এবং চন্দ্রপুর জেলায় এই সময়ে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের কোনও খবর নেই।
_______



















