নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই: রাজ্য সরকার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শকে পাথেয় করে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটিকে শক্তিশালী করার প্রয়াস নিয়েছে। ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বলেছেন, সেবাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। তাই জনপ্রতিনিধিদের সমাজকল্যাণে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন আজ অরুন্ধতীনগরস্থিত স্টেট পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টারে পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ষোড়শ অর্থকমিশনের অনুদান বিষয়ক একদিনের রাজ্যস্তরীয় কর্মশালার উদ্বোধন করে একথা বলেন।
কর্মশালায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিগণ, বিএসি-র চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিক, বিডিওগণ, কর্মচারি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। কর্মশালায় পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে গ্রামীণ এলাকার প্রকৃত চাহিদা ও অগ্রাধিকার এবং ষোড়শ অর্থকমিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ, স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নত পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০২৬-২৭, ষোড়শ অর্থকমিশনের গ্র্যান্ট এবং ভিবি জিরামজি এই তিনটি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির দর্শন ছিল সমাজের অন্তিম ব্যক্তির জীবনমান উন্নয়ন করা। এই লক্ষ্য নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের গ্রামীণ মানুষের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যথাসময়ে গ্রামসভা করতে হবে। তিনি বলেন, গত বছর ত্রিপুরা ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাফল্যের জন্য সাতটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। এবছর অর্জন করেছে ৩টি জাতীয় পুরস্কার। রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত ফ্রন্ট রানার শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। আমরা চাই গ্রামের এস.সি., এস.টি., মহিলা, যুবক, কৃষক ও প্রান্তিক জনগণের সার্বিক কল্যাণ।
ভিবি জিরামজি প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১ জুলাই থেকে দেশে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজের সংস্থান রাখা হয়েছে। আগে ছিল ১০০ দিন। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা। এ প্রকল্পে গ্রামে ৩১৮ রকমের কাজ করা যাবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে আগামী ৫ বছরের মধ্যে গ্রামের আমূল পরিবর্তন আনার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এর সফলতায় জিলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত, ভিলেজ কমিটি ও সরকারি আধিকারিকদের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ভিবি জিরামজি প্রকল্পের বিষয়ে বিভিন্ন জেলা ও মহকুমাতে জনগণকে সচেতন করার জন্য কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে রাজ্য সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাম শক্তিশালী হলেই রাজ্য ও দেশ শক্তিশালী হবে। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, ধলাই জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে গ্রামোন্নয়ন (পঞ্চায়েত) দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং সকলকে স্বাগত জানান। তিনি পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০২৬-২৭, ষোড়শ অর্থকমিশনের গ্র্যান্ট এবং ভিবি জিরামজি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েতমন্ত্রী পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০২৬-২৭ এবং মেরি পঞ্চায়েত মেরি ধরোহর এই দুটি বুকলেটের আবরণ উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সহ অতিথিগণ ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শেষে টেকনিক্যাল সেশনে ফ্যাকাল্টি চিরব্রত দেবনাথ (গ্রামোন্নয়ন), ফ্যাকাল্টি ড. শুভায়ন চক্রবর্তী (ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট) এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের উপঅধিকর্তা অনুপম দাস ওয়ে ফরোয়ার্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পঞ্চায়েত দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অনুরাগ সেন।



















