কলকাতা, ৬ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি, প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আনন্দ সরকার-কে গ্রেফতার করেছে।
এই মামলায় এর আগে আরও দু’জন অভিযুক্ত, প্রবাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার-কে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের সোমবারই অথবা মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি জেলা আদালতে তোলা হবে। সরকারি কৌঁসুলি তাঁদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবেন।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। নিহতের পরিবার যা চাইছে, সরকার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চলাকালীন এক ব্যক্তিকে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এর পিছনে সাম্প্রদায়িক যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “এখনই সব তথ্য প্রকাশ করব না। তবে রবিবার বিক্ষোভের নামে যেভাবে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলন এবং সম্প্রতি ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল-বিরোধী বিক্ষোভের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রবিবারের বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী-এর দুই জওয়ান আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।
নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কায় বারুইপুর পুলিশ জেলা ইতিমধ্যেই তাদের অধীন তিনটি থানার এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।



















