জয়পুর, ৭ জুলাই (আইএএনএস): অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত কথিত আর্থিক অনিয়মের বিতর্কের মধ্যে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট মঙ্গলবার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত কোনও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে গেহলট রাম মন্দির নির্মাণে রাজস্থানের ভরতপুর জেলার বানসি পাহাড়পুরের বেলেপাথর সরবরাহে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য কেবল বৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ব্যবহার করার পরামর্শ তিনি নিজেই মন্দির কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন।
গেহলটের দাবি, রাম মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে বানসি পাহাড়পুর এলাকায় অবৈধ খননের ঘটনা ঘটছিল। সেই সময় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং তাঁর সহযোগী দিনেশ জয়পুরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।
সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে গেহলট বলেন, আমি তাঁদের বলেছিলাম, এত পবিত্র ও ঐতিহাসিক প্রকল্পে কখনও অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ব্যবহার করা উচিত নয়। শুধুমাত্র বৈধভাবে উত্তোলিত এবং প্রত্যয়িত পাথর ব্যবহার করা উচিত, যাতে মন্দিরের পবিত্রতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে।
তিনি আরও বলেন, বানসি পাহাড়পুরের প্রধান খনন এলাকা বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় থাকায় বিদ্যমান নিয়মে সেখানে খনন করা কঠিন ছিল।
গেহলটের দাবি, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত পৌঁছায়। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জমির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো সুপারিশ পাঠায়, যার ফলে আইনসম্মতভাবে খননের পথ প্রশস্ত হয়।
তাঁর বক্তব্য, যে প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে সাধারণত বহু বছর সময় লাগত, তা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছিল, যাতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য বৈধভাবে বানসি পাহাড়পুরের বেলেপাথর সরবরাহ করা সম্ভব হয়। সেই সময় মন্দির ট্রাস্ট কংগ্রেস সরকারের উদ্যোগের প্রশংসাও করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাম মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত কথিত আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গে গেহলট বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ গভীর ভক্তিভরে এই মন্দির নির্মাণে অনুদান দিয়েছেন। সেই অর্থের অপব্যবহার হয়ে থাকলে তা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে।
তিনি বলেন, যদি তছরুপের অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তা জবাবদিহি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে অশোক গেহলটের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
























