নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই (আইএএনএস): জরুরি ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (ইসিএলজিএস) ৫.০ চালুর পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৪৯৭টি ঋণ গ্যারান্টি প্রদান করা হয়েছে। মোট গ্যারান্টির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।
গত ৫ মে, ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে আর্থিক তারল্য (লিকুইডিটি) সহায়তা প্রদান করা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণদাতা সংস্থাগুলির ঝুঁকি কমিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যাতে নগদ অর্থের প্রবাহে ব্যাঘাত কাটিয়ে ব্যবসা সচল রাখা যায়।
অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-এর জন্য অতিরিক্ত ঋণের উপর ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের জন্য ৯০ শতাংশ গ্যারান্টি দেওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঋণ দিতে পারছে। ফলে প্রয়োজনীয় খাতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মন্ত্রকের দাবি, ইসিএলজিএস ৫.০-এর অগ্রগতি প্রমাণ করছে যে সরকার একটি শক্তিশালী ও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম ঋণ ব্যবস্থার গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকল্পের পরিধি ও প্রচার আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমএসএমই-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের তারল্য চাহিদা পূরণে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প। মোট জারি হওয়া গ্যারান্টির সংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশ এমএসএমই-র জন্য এবং মোট গ্যারান্টির অর্থমূল্যের ৮২ শতাংশ-ও এই খাতেই বরাদ্দ হয়েছে।
প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং আরও বেশি যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এর আওতায় আনতে আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস) দেশজুড়ে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি চালাচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে নয়টি স্থানে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যস্তরের ব্যাঙ্কার্স কমিটি (এসএলবিসি)-র মাধ্যমে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ন্যাশনাল ক্রেডিট গ্যারান্টি ট্রাস্টি কোম্পানি (এনসিজিটিসি), পিএসবি অ্যালায়েন্স, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, শিল্প সংগঠন এবং উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রচার কর্মসূচি ১০টি স্থানে চলছে, যার মধ্যে চারটি স্থানের কর্মসূচি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন এবং ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলিও প্রকল্পটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।
























