নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই (আইএএনএস): ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে সোমবার উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন উপরাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় ভারতের শিক্ষা, রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ উপরাষ্ট্রপতি লেখেন, “আজ উপরাষ্ট্রপতি ভবনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছি।”
তিনি বলেন, “একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও জাতি-গঠনের কারিগর হিসেবে ড. মুখোপাধ্যায় ভারতের শিক্ষা, রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক যাত্রায় স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কনিষ্ঠ উপাচার্য, গণপরিষদের সদস্য, অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতি, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি দেশের প্রতি অসামান্য অবদান রেখেছেন।”
রাধাকৃষ্ণন আরও বলেন, “জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার একনিষ্ঠ প্রবক্তা হিসেবে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাঁর জীবনাদর্শ আজও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ, আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়ার প্রেরণা জোগায়।”
তিনি বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় দেশের ঐক্যের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁর সেই মহান আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হবে না। উপরাষ্ট্রপতির মতে, ড. মুখোপাধ্যায় এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে একক সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন। তাঁর দাবি, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ ড. মুখোপাধ্যায়ের আজীবন জাতীয় সংহতির আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।
১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ড. মুখোপাধ্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি তৎকালীন নিয়ম অমান্য করে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করেন এবং ভারতীয় নাগরিকদের সেখানে বসবাস ও প্রবেশের জন্য পৃথক পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। পরে ওই পরিচয়পত্রের নিয়ম প্রত্যাহার করা হলেও, ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন কাশ্মীরে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়।



















