সানন্দ/নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই (আইএএনএস): গুজরাটের সানন্দে সিজি সেমির আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট (ওস্যাট) কেন্দ্র উদ্বোধনের একদিন পর রবিবার দেশের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তরুণ কর্মী, বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও আদিবাসী এলাকার মহিলাদের অবদানের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন কারখানার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতা ছিল সফরের “সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্তগুলির একটি”।
তিনি লেখেন, এই কারখানার কর্মীদের বড় একটি অংশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে আসা মহিলা। বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা এখন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শিল্পে কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওঁরা ভারতের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন। অনেকেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। কিন্তু তাঁদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তাঁরা সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি শিখেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আজ ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করছেন। আমাদের যুবশক্তিকে নিয়ে আমি গর্বিত।”
শনিবার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী এক তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেন, গত এক বছরে ওই কারখানায় কাজ করার মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী।
জবাবে ওই কর্মী জানান, তাঁদের গ্রামে সাধারণত পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে পাঠানো হয় না। কিন্তু সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় চাকরি পাওয়ার পর সেই মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন যখন আমি বাড়ি ফিরি, সবাই অবাক হয়ে জানতে চান আমি কোথায় থাকি, কী করি। আমি বলি, আমি সিজি সেমিতে কাজ করি। সবাই খুব খুশি যে আমি স্বনির্ভর হয়েছি। আমার বন্ধুরাও জানতে চায়, তারাও এখানে কাজের সুযোগ পেতে পারে কি না। আমি তাদের বলি, অবশ্যই আসতে পারো।”
প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার বাসিন্দা কৌশল কুমারের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানতে চান, এটি তাঁর প্রথম গুজরাট সফর কি না এবং গুজরাটের গরম আবহাওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন। কৌশল জানান, এটাই তাঁর প্রথম গুজরাট সফর।
এছাড়া ঝাড়খণ্ডের গিরিডিহ জেলার এক মহিলা কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি বিরনির কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে আইটিআই-তে প্রশিক্ষণ নেন। পরে সিজি সেমিতে চাকরি পান। এই চাকরির সুবাদে বিদেশ সফরের সুযোগও তাঁর হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আইটিআই-তে পড়াশোনাকে মানুষ কি এখনও ততটা গুরুত্ব দেয় না? উত্তরে ওই কর্মী বলেন, গ্রামের মানুষ প্রথমে মনে করতেন, তিনি বিশেষ কিছু করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, “আগে সবাই ভাবত, আমি গ্রামের মেয়ে, বাইরে পড়তে গিয়ে শুধু সময় নষ্ট করছি। রাঁচিতে থাকাকালীনও অনেকে তাই বলতেন। কিন্তু এখন সবাই বুঝতে পারছেন, আমি সত্যিই কিছু করতে পেরেছি।”
শনিবার প্রধানমন্ত্রী সানন্দে সিজি সেমির ওস্যাট কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যেই এই কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।
প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই প্রকল্পটি ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর আওতায় উৎপাদন শুরু করা দেশের তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র।
এই কারখানায় মূলত অটোমোবাইল, শিল্প এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স খাতের জন্য সেমিকন্ডাক্টর চিপের প্যাকেজিং ও পরীক্ষার কাজ হবে। এর ফলে দেশের নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ কর্মীদের আত্মবিশ্বাস তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ভারতের লক্ষ্য চিপ ডিজাইন, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষাকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা দেশের উন্নত ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
























