জয়পুর, ৪ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, কার্যকর কূটনীতি এবং বিচক্ষণ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফলভাবে মোকাবিলা করেছে ভারত বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাজস্থানের বালোতরা জেলার পাচপদরায় দেশের অত্যাধুনিক সমন্বিত রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করে তিনি এই কথা বলেন।
একদিনের রাজস্থান সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রথমে যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুরে পাচপদরায় পৌঁছে রিফাইনারির অত্যাধুনিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিদর্শন করেন, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে কথা বলেন, প্রকল্পের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র দেখেন, জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কারের উদ্বোধন করেন, পাঁচজন যুবকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন এবং ভার্চুয়ালি জয়পুর মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস করেন।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের বহু দেশ জ্বালানির ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। কিন্তু নতুন ভারতের দৃঢ় সংকল্প এবং নিরন্তর প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি বলেন, “ভারত প্রতিটি স্তরে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময়মতো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে, কার্যকর কৌশল তৈরি করেছে এবং দেশের সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। ইতিবাচকভাবে কূটনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগানোর ফলেই ভারত এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।”
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ না হলে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম ২,০০০ টাকায় পৌঁছে যেতে পারত। তিনি বলেন, “সরকার পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। তাই বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় ৯৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।”
তেল বিপণন সংস্থাগুলির ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রিতে তেল সংস্থাগুলির প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই বিপুল ক্ষতির ভার সরকার বহন করেছে। এই অর্থ দিয়ে একটি নতুন রিফাইনারি তৈরি করা সম্ভব ছিল।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। “আগে ভারত ২৫-২৬টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত। যুদ্ধের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে ৪০-এ পৌঁছেছে। এই সংকটে ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতা স্পষ্ট হয়েছে।”
তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় পর্দার আড়ালে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা একদিন ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। “যখন কিছু মানুষ গুজব ও আতঙ্ক ছড়াতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন নেপথ্যে দিন-রাত কাজ চলছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য।”
পাচপদরার রিফাইনারির উদ্বোধনকে আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারতের পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রিফাইনারি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে রাজস্থানের যুবকদের আমি অভিনন্দন জানাই।”
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার শুধু প্রকল্পের শিলান্যাস করে থেমে থাকে না, সেগুলি সম্পূর্ণ করেও দেখায়। “আজকের দিন তারই প্রমাণ।”
চলতি বছরের গোড়ায় রিফাইনারিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “নতুন ভারত কোনও চ্যালেঞ্জের সামনে মাথা নত করে না এবং তার গতি কখনও থামে না।”
রাজস্থানের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এদিন যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের উদ্বোধন হয়েছে, যা পর্যটন, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানে নতুন গতি আনবে। পাশাপাশি যোধপুর থেকে ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ (উড়ান) প্রকল্পের নতুন পর্যায় চালু হওয়ায় ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
শেখাওয়াতি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলসংকটের কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার সমাধানের অপেক্ষারও অবসান ঘটতে চলেছে।
পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজস্থানের জলসংকট দূর করতে তারা কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর দাবি, বিজেপি আঞ্চলিক বা বিভাজনের রাজনীতি করে না, বরং ‘দেশ সবার আগে’ নীতিতে বিশ্বাস করে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শনিবারের কর্মসূচিতে রাজস্থানের প্রায় ৫৪ হাজার যুবকের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নই উন্নত ভারত গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



















