নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা রফতানিও রেকর্ড ৩৮ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালের ৬৮৬ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৫৭ গুণ বৃদ্ধি। এই সাফল্য ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের প্রতি বিশ্বের আস্থারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
শনিবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত ১২ বছরে ভারত ঘাটতি থেকে আত্মনির্ভরতার দিকে, আত্মনির্ভরতা থেকে আত্মবিশ্বাসের দিকে এবং আত্মবিশ্বাস থেকে উন্নত ভারত গঠনের পথে এগিয়েছে।”
তিনি বলেন, সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ‘সংস্কার, কর্মসম্পাদন ও রূপান্তর’ নীতির মাধ্যমে উন্নত ভারতের শক্ত ভিত গড়ে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের চতুর্থ মেয়াদে বিশ্ব একটি উন্নত ভারতের উত্থান প্রত্যক্ষ করবে।
রাজনাথ সিং বলেন, ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি শুরু হওয়ার সময় অনেকেই এটিকে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এই উদ্যোগ নতুন সাফল্যের নজির গড়েছে এবং এখনও সেই ধারা বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে বিশ্বের দরবারে ভারতের বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হত না, কিন্তু আজ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়।”
২০২১ সালে শুরু হওয়া ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর প্রসঙ্গ তুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রথম দিকে এই প্রকল্প নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হলেও ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পরিকাঠামোভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর পার্ক গড়ে তোলার ফলে গত বছর ভারত নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ফলে মোবাইল ফোন উৎপাদন, অটোমোবাইল রফতানি, দেশীয় প্রযুক্তিতে লোকোমোটিভ নির্মাণ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের কথাও তুলে ধরে রাজনাথ সিং জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর মাধ্যমে ২২.৩৫ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ২৯ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি ইউপিআই পরিষেবার আন্তর্জাতিক বিস্তারও ক্রমশ বাড়ছে।
তিনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ৫জি প্রযুক্তি দ্রুত সারা দেশে চালু করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ৬জি প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
এছাড়া পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি)-র সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, শুরুতে নানা আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে জিএসটি কেন্দ্র ও রাজ্য তথা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে সমবায়মূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি সফল মডেলে পরিণত হয়েছে।



















