News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অনড় রাজ্য সরকার, পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী
Image

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অনড় রাজ্য সরকার, পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৪ জুলাই: মাদকের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই। আজ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।

সম্প্রতি ট্রেনে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এত বড় পরিমাণে মাদক আটক হওয়া আসলে পুলিশের তৎপরতা ও দক্ষতারই প্রমাণ। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হচ্ছে, এটা সন্তোষের বিষয়। এর অর্থ পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির ভিত্তিতেই আমরা কাজ করছি। তবে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাদক পাচার চক্রের একাধিক অভিযুক্তকে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ত্রিপুরায় এনে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং অনেকেই বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করে না। কোটি কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর ফলে মাদক ব্যবসা এখন আর আগের মতো লাভজনক থাকছে না এবং পাচারচক্র বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। যদিও এই যন্ত্রগুলির দাম অনেক বেশি, তবুও মাদক পাচার রোধে এগুলি অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই স্ক্যানারগুলির মাধ্যমে পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল ব্যাহত না করেই দ্রুত ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাদক শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন “ইজ অব ডুয়িং বিজনেস” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকবে, অন্যদিকে সীমান্তে নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মায়ানমার থেকে আসা মাদকদ্রব্য প্রায়ই আসামের মাধ্যমে ত্রিপুরায় প্রবেশ করে এবং পরে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা হয়। সেই কারণেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এদিকে, সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মানিক সাহা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএ)-এর সুবিধা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং বছরে নিশ্চিত কর্মদিবস ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

তাঁর মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ প্রদান এবং বিলম্ব হলে ক্ষতিপূরণের বিধান গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Releated Posts

ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত: ৩০৫টি নতুন পদ সৃষ্টি, ১,১৭৭ জন নিয়োগে অনুমোদন

আগরতলা, ২০ আগস্ট: রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে জনবল বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

ওএনজিসির রাসায়নিক বর্জ্যে ফসলের জমি ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের দাবিতে গেট অবরোধ কৃষকদের

সোনামুড়া, ২০ আগস্ট: ওএনজিসির ড্রিলিং প্রকল্প এলাকা থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত জল কৃষিজমি ও জলাশয়ে ঢুকে ফসল…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

কিল্লামুড়ায় নতুন এসপি অফিসের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন, পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

আগরতলা ২০ আগস্ট: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার নতুন পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে তা…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026

মতিনগর সীমান্ত সড়কের পাশে ৫২৫ বোতল কাশির সিরাপ উদ্ধার, তদন্তে সোনামুড়া থানা

সোনামুড়া, ২০ আগস্ট: মতিনগর সীমান্ত সড়কের পাশে মোবাইল ডিউটি চলাকালীন বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য…

ByByReshmi Debnath Aug 20, 2026
Scroll to Top