সোনামুড়া, ২০ আগস্ট: ওএনজিসির ড্রিলিং প্রকল্প এলাকা থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত জল কৃষিজমি ও জলাশয়ে ঢুকে ফসল নষ্ট এবং মাছের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনামুড়া মহকুমার খেদাবাড়ি এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার ওএনজিসির গেট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ওএনজিসির প্রকল্প এলাকায় ড্রিলিংয়ের কাজ থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য একটি ট্যাঙ্কে জমা করে রাখা হয়। সম্প্রতি বৃষ্টির জেরে সেই ট্যাঙ্ক উপচে রাসায়নিক মিশ্রিত জল আশপাশের কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। এর ফলে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
কৃষিজমির পাশাপাশি পাশের জলাশয় ও ছোট-বড় পুকুরেও ওই রাসায়নিক মিশ্রিত জল ঢুকে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। মৎস্যচাষিদের দাবি, জল দূষিত হয়ে বহু মাছ মারা গেছে। পাশাপাশি বেঁচে থাকা মাছগুলি মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জলাশয়ের জল থেকে রাসায়নিক ও কেরোসিনের মতো তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে তাঁরা ওএনজিসির গেট অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন।
কৃষকদের দাবি, রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফসল, কৃষিজমি ও জলাশয়ের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বক্তব্য, কৃষিজমিই তাঁদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। সেই জমি দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে তাঁরা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি সোনামুড়া মহকুমা প্রশাসনের কাছেও জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ওএনজিসি কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। রাসায়নিক দূষণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



















