মুম্বই, ৪ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রবিবার মুম্বইয়ের ‘গর্জন মোরচা’ সমাবেশ থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি যখন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কথা বলেছিলেন, আমরা সেই ভাবনাকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু যদি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নামে একজন স্বৈরশাসক তৈরি করা হয়, তাহলে সেই স্বৈরতন্ত্রকে কবর দিতে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র অধীনে অন্য সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু আপনি যদি স্বৈরশাসক হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে মনে রাখবেন, সেই স্বৈরতন্ত্রের কবর এখানেই হবে।”
রাজ ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই সমাবেশে উদ্ধব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ।
উদ্ধবের দাবি, সারা দেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এই সংখ্যা মহারাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার সমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এভাবে বাদ দেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য। তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রেই প্রায় দুই কোটি, তামিলনাড়ুতে ৭০ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গে ৩০ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে উদ্ধব বলেন, উপনির্বাচনের আগে বাতিল হওয়া বেশ কিছু ভোটার আবেদন ফের বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। আদালতে মামলার শুনানির সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ঠিক একদিন আগে যদি আদালতে শুনানি হয়, তাহলে পুনর্বহাল হওয়া ভোটাররা কীভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও সরব হন উদ্ধব। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্য বিচারপতিকে নিয়োগ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে বর্তমানে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থায় শাসক দলের পক্ষে স্বাভাবিকভাবেই ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়।
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে উদ্ধব বলেন, “শাসন এবং বিজেপি একে অপরের বিপরীত। আপনারা যে ব্যবস্থা চালাচ্ছেন, তা প্রশাসন নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।” তাঁর দাবি, বিতর্কিত ভোটার আবেদনগুলি যাচাইয়ের বর্তমান গতিতে কাজ শেষ করতে প্রায় ১৪৬ মাস সময় লেগে যাবে।
মহারাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে নিশানা করেন উদ্ধব। থানেতে শিবসেনার এক পদাধিকারী প্রদীপ পূর্ণেকরের হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে উদ্ধব বলেন, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা এমন ‘প্রতিহিংসাপূর্ণ’ গণতন্ত্রকে কখনও সমর্থন করেননি।
তিনি বলেন, “আপনারা হয়তো প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসন দখল করেছেন, কিন্তু রাস্তাঘাট মানুষের। এমন একটি দিন আসবে, যখন এই জনসাধারণের রাস্তায় হাঁটাও আপনাদের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে।”
মুম্বইয়ের মেট্রো সিনেমা থেকে বিএমসি সদর দপ্তর, সিএসএমটি পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। দলীয় পতাকার পরিবর্তে মিছিলে কেবল জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হয়। এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার), কংগ্রেস, পিজেন্টস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম দলগুলির পাশাপাশি এমএনএস ও শিবসেনা (ইউবিটি)-র কর্মীরাও এতে যোগ দেন।



















