ঢাকা, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ভোট দেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তথা রিটার্নিং অফিসার এএমএম নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে এবার মুখোমুখি হয়েছেন দু’জন প্রার্থী—বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ওলি আহমেদ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য।
৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর এবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফের সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে প্রবণতা চলে আসছিল, এবার তা ভেঙে গেল। এর আগে সর্বশেষ সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও সংসদে সংখ্যার বিচারে বিএনপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১০টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
‘ঢাকা ট্রিবিউন’-কে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, বিরোধীরা জানে তাদের প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হবেন। তা সত্ত্বেও প্রার্থী দেওয়াকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট কেন জয়ের সম্ভাবনা কম জেনেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, রাজনৈতিক মহলে বিএনপি ও জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার অভিযোগ বা প্রশ্ন এড়াতেই জোট প্রার্থী দিয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকাভিত্তিক নাগরিক সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা বদিউল আলম মজুমদার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে পূর্বনির্ধারিত বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দল যাকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইবে, তিনিই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হবেন।



















