কলকাতা, ৫ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হয়েছে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারার পাশাপাশি ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০, প্রি-কনসেপশন অ্যান্ড প্রি-নাটাল ডায়াগনস্টিক টেকনিকস (পিসিপিএনডিটি) আইন, ১৯৯৪, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) আইন, ২০১৯ এবং পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্টস (রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি) আইন, ২০১৭-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন পলাতক বলে দাবি করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুমিত রায়, ফলতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। এছাড়াও অয়ন ঘোষ দস্তিদার, শামিম আহমেদ, গৌতম অধিকারী, মেহবাবুর গায়েন, নবকুমার বেতাল, বাবন গাজি-সহ একাধিক ব্যক্তি ও কয়েকটি সংগঠনের নাম এফআইআরে রয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন আয়োজক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সরকারি কর্মচারীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিজের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও এই উদ্যোগের সম্প্রসারণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘সেবাশ্রয়’ এবং ‘সেবাশ্রয় ২’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে মোট ১৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই শনিবার রাতে বিষ্ণুপুর থানায় দ্বিতীয় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য শিবিরের মূল আয়োজক হিসেবে চার্জশিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। জননেতা হিসেবে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের অর্থের উৎসও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গির খান এবং দিলীপ মণ্ডল ইতিমধ্যেই পৃথক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন।
এর আগে গত ২ জুলাই ডায়মন্ড হারবার থানায় এই ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয় এবং একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমনকি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যরা পরিকল্পিতভাবে অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন এবং প্রতারণা, জালিয়াতি, বেআইনি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের অবৈধ ব্যবহারের মতো অপরাধে জড়িত।
তবে এই ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























