কোচি, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও তাঁর মেয়ের ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিল কেরল হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে এবং এই মুহূর্তে তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি শ্যাম কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া বিস্তারিত তদন্ত অগ্রগতি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করে।
এর আগে আদালত রাজ্য সরকারকে এফআইআর দায়েরের পর তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে তিরুবনন্তপুরম সিটি পুলিশের কমিশনার তদন্ত সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত বিবৃতি আদালতে পেশ করেন।
রাজ্য সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, মিউজিয়াম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারা এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে কাচের টুকরো, মাটির নমুনা-সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, ফরেন্সিক, আলোকচিত্র এবং ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৫ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারী দল আহত ইডি আধিকারিক এবং অভিযুক্তদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের জন্য একাধিক সংবাদমাধ্যমকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থ মামলায় ওঠা অভিযোগের জবাবে রাজ্য সরকার আদালতে জানায়, এই ঘটনার আগে কোনও গোয়েন্দা তথ্য ছিল না, ফলে গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রশ্নই ওঠে না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বড় ধরনের অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়।
রাজ্য সরকার আরও দাবি করে, তদন্তে পক্ষপাতিত্ব, প্রভাবশালীদের আড়াল করা, শ্রমিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ বা ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। সব দিক বিবেচনা করে কেরল হাইকোর্ট জানিয়েছে, বর্তমান তদন্তের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তাই এই পর্যায়ে মামলাটি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
























