গান্ধীনগর, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): শুধুমাত্র বিনিয়োগের গন্তব্য নয়, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সাপ্লাই চেইন উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে গুজরাটকে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মঙ্গলবার আমেরিকা সফরের দ্বিতীয় দিনে সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ১০০-র বেশি শিল্পনেতার সঙ্গে রাউন্ড টেবিল ও একান্ত বৈঠক করেন তিনি।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এডটেক, হেলথটেক, গেমিং এবং ডিপটেক ক্ষেত্রের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদল। বিনিয়োগ, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মার্কিন সংস্থাগুলির সঙ্গে গুজরাটের ব্যবসায়িক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ভূপেন্দ্র প্যাটেল সংস্থাগুলিকে আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ভাইব্র্যান্ট গুজরাট গ্লোবাল সামিট ২০২৭-এ অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিজনেস-টু-বিজনেস এবং বিজনেস-টু-গভর্নমেন্ট বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের সুযোগ খুঁজে দেখারও আহ্বান জানান তিনি।
সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শিল্পনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় প্যাটেল সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে গুজরাটের শিল্পভিত্তিকে একত্রিত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, উৎপাদন এবং বিশ্ববাজারে সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্যাটেলের কথায়, “পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি হাবের সাফল্য শুধু উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করবে না। জমি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মূলধন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা—সব সুবিধা একসঙ্গে দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাট এই সমস্ত সুবিধা দিতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
বৈঠকগুলিতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে গুজরাটের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও উঠে আসে। নীতিগত স্থিতিশীলতা, পরিকাঠামো এবং ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার কারণে গুজরাটকে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের অন্যতম দ্রুত বিকাশশীল কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।
বৈঠকে অংশ নেওয়া শিল্প প্রতিনিধিরাও গুজরাটের পরিকাঠামো, নীতিগত স্থিতিশীলতা, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যবসাবান্ধব ও সক্রিয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রশংসা করেন।
অন্য একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকে এআই, হেলথটেক, এডটেক এবং গেমিং ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেনারেটিভ এআই, রোবোটিক্স, শিক্ষাপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং গেমিংয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন প্যাটেল।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুজরাটে এই প্রযুক্তিগুলির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল-সহ জেনারেটিভ AI-এর বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট তৈরি, ভিডিও নির্মাণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
গেমিং ক্ষেত্রেও গুজরাটে নতুন সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। গুজরাটে অনুষ্ঠিত হতে চলা কমনওয়েলথ গেমসকে কেন্দ্র করে গেমিং ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্যাটেল ও শিল্প প্রতিনিধিরা। সহায়ক নীতি, উদ্ভাবন এবং শিল্পের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভাইব্র্যান্ট গুজরাট গ্লোবাল সামিট ২০২৭-এর আগে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর আমেরিকা সফর। সফরের প্রথম দিনে সান ফ্রান্সিসকোতে গুজরাটি প্রবাসীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুজরাটি প্রতিভার সঙ্গে রাজ্যের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর, এআই ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাজ্যের মুখ্যসচিব এম কে দাস এবং শিল্প দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মমতা ভার্মাও বৈঠকগুলিতে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা গুজরাটের উন্নয়নের যাত্রা, ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিটের বিভিন্ন পর্ব এবং ২০২৭ সালের সংস্করণের প্রস্তুতির বিষয়ে শিল্পনেতাদের অবহিত করেন।
প্রচলিত উৎপাদন শিল্পের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেমিকন্ডাক্টর, এআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই গুজরাট সরকারের নতুন লক্ষ্য। গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে এক সুসংহত ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করে রাজ্যকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



















