বিহার/লখনউ, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত-নেপাল সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। মঙ্গলবার আধিকারিকরা জানান, বিহারে এক সোমালি নাগরিককে এবং উত্তরপ্রদেশে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগে এক থাই মহিলাকে আটক করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনায় বিহারের মোতিহারি পুলিশ ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে এক আফ্রিকান নাগরিককে আটক করে। ওই ব্যক্তি নিজেকে হায়দরাবাদের নিজাম কলেজের ছাত্র বলে দাবি করেছেন। সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর সশস্ত্র সীমা বল এবং মোতিহারি পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আধিকারিকদের মতে, আটক ব্যক্তি সোমালিয়ার নাগরিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে নিজাম কলেজের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। তবে তাঁর কাছে থাকা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। ভারতে তাঁর অবস্থানের কারণ এবং সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় তাঁর উপস্থিতির পরিস্থিতি জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এসএসবি-এর ভাংহা দল ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে ঝরোখর থানার অধীন সৈনিক রোড এলাকায় ওই বিদেশি নাগরিককে আটক করে। জানা গেছে, তিনি দিল্লি থেকে ঘোড়াসহন হয়ে সীমান্ত এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এসএসবি ও স্থানীয় পুলিশ তাঁর নথিপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখতে শুরু করে। বিশেষভাবে তাঁর মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট, ভারতে প্রবেশের পরিস্থিতি এবং দিল্লি থেকে ঘোড়াসহন হয়ে সীমান্তে পৌঁছনোর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা ওই যুবক যাত্রাপথে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ২৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসবি ও পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলার ভারত-নেপাল সীমান্তের সোনৌলি ইমিগ্রেশন অফিসে। সেখানে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগে এক থাই নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
আধিকারিকদের মতে, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ওই মহিলার মোবাইল ফোনে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নথিগুলির উৎস এবং সেগুলি কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
আটক মহিলার নাম চন চুটিচিরাফাত। তিনি থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং তাঁর কাছে এসি২৮২৫০৩২ নম্বরের আসল থাই পাসপোর্ট ছিল।
তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে জেডএমওয়াই৪৩৪৮০৬৬ নম্বরের ভোটার আইডি, ডিএএফপিডি৪৫৯ডি নম্বরের প্যান কার্ড এবং আধার কার্ডের ডিজিটাল কপি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, এই নথিগুলি করুণা রূপনী দেবী দাসী নামে তৈরি করা হয়েছিল। নথিতে তাঁকে বৃন্দাবনের রমনরেতি এলাকার বৈষ্ণব নগরের বাসিন্দা নেপালি নাগরিক মিত্রলাল খানালের স্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, ওই মহিলা ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডে মিত্রলাল খানালকে বিয়ে করেন। ২০০৬ সালে স্বামীর সঙ্গে ভারতে এসে মথুরায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে ২০১১ সালে ওই দম্পতি মথুরায় জমি কিনে সেখানে নিজেদের বাড়ি তৈরি করেন।
আধিকারিকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে তাঁর নামে জাল ভারতীয় নথি তৈরি করা হয়। ওই মহিলার দুই সন্তান—নন্দনী, ২০ এবং নীরজ, ১৮—মথুরায় বসবাস ও পড়াশোনা করছেন বলেও জানা গেছে।
গত ১৯ মে ওই মহিলা নেপালে যান এবং ১৬ আগস্ট ভারতে ফিরে আসেন। সোনৌলি সীমান্তে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তাঁর কাছে থাকা কথিত জাল ভারতীয় নথির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে।
এই ঘটনায় প্রাসঙ্গিক আইনি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্ত চালাচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



















