নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা রুখতে ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তাঁর পদক্ষেপ শুধু বিমানের যাত্রীদের জীবনই রক্ষা করেনি, ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।
শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় মোদি বলেন, সংকটের মুহূর্তে ক্যাপ্টেন মাচ্ছর যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নিতেন, তাহলে পরিস্থিতির পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।
প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, “এটি না ঘটলে ভারতকে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হতো এবং তাঁদের কীভাবে দেখা হতো, কে জানে। আপনি সবাইকে রক্ষা করেছেন। আপনি অত্যন্ত বড় একটি কাজ করেছেন।”
মোদি আরও বলেন, এই ঘটনা ভারতীয়দের সাহস ও মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছে। তাঁর কথায়, “দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ নেয় না, বরং অন্যদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত থাকে।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা ক্যাপ্টেন মাচ্ছর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন।
মাচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “আমি অনেক আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠে দাঁড়িয়ে কাজ করতেই হবে। আমি যদি তা না করতাম, তাহলে আমি মারা যেতাম।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় ক্যাপ্টেনকেও কীভাবে দায়ী করা হতে পারত, তা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথোপকথনে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি।
জানা গেছে, আকাশপথে সংঘর্ষের সময় ওমানের সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর ক্যাপ্টেন মাচ্ছর আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। অভিযোগ, সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।
দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিতে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের ঘটনা রুখে দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানা গেছে। বিমানটিতে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও কর্মী ছিলেন।
ঘটনার পর একাধিক এক্স ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হলে দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হতো। কয়েকজন দাবি করেন, ঘটনার পরিস্থিতি সত্ত্বেও ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারত।
এদিকে, ২০২৫ সালে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়েও এখনও নজর রয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার পরিচালনাকারী পাইলটদের ভূমিকা ও পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার জানায়, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) তদন্ত অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতেও ১৯ জনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। বুধবারের আকাশপথের সংঘর্ষের ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই সাময়িকভাবে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে আসা তাদের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে।

















