নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতে শুক্রবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সরলতা ও দেশের প্রতি নিষ্ঠার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাস্ত্রীর জীবন ও আদর্শ আজও দেশবাসীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজিকে শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর সরলতা ও দেশের প্রতি নিষ্ঠা আজও গভীরভাবে অনুপ্রেরণা জোগায়।”
এদিন শাস্ত্রীর দেশের প্রতি অবদান তুলে ধরে একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর ঐতিহাসিক ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এসে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’-এর বার্তা দিয়েছিলেন। এর ফলে প্রতিটি কৃষক উঠে দাঁড়িয়েছিলেন।”
শাস্ত্রীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করলেই মানুষের মনে গভীর শ্রদ্ধার অনুভূতি জাগে। তাঁর বিনয়ী ব্যক্তিত্ব প্রতিটি নাগরিকের মনে গর্বের অনুভূতি তৈরি করে। বাইরে থেকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, কিন্তু ভিতর থেকে ছিলেন পাথরের মতো দৃঢ়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাত্র দেড় বছরের মধ্যে কৃষক ও জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সাফল্য অর্জনের মন্ত্র দিয়েছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী।
এর আগে এদিন সকালে নয়াদিল্লির বিজয়ঘাটে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শাস্ত্রীর সরলতা, বিনয় এবং দৃঢ় নেতৃত্ব আজও দেশকে অনুপ্রাণিত করে। দেশের প্রতি তাঁর অটুট দায়বদ্ধতা এবং কৃষক ও জওয়ানদের শক্তির প্রতি গভীর আস্থা তাঁর অন্যতম স্থায়ী উত্তরাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান। তিনি শাস্ত্রীকে সরলতা ও দেশের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁর ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগান এখনও অনুপ্রেরণা জোগায় বলে জানান।
প্রতি বছর ২ অক্টোবর ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। বিনয়, সততা এবং জনসেবার প্রতি নিষ্ঠার জন্য তিনি দেশজুড়ে স্মরণীয়। কঠিন এক সময়ে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও জওয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে তাঁর ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মনাম ছিল লাল বাহাদুর শ্রীবাস্তব। ছোটবেলাতেই তিনি জাতপাতের পরিচয় থেকে দূরে থাকার জন্য পদবি ব্যবহার করা ছেড়ে দেন। ১৯২৫ সালে কাশী বিদ্যাপীঠ থেকে পাওয়া শিক্ষাগত উপাধি ‘শাস্ত্রী’ পরবর্তীকালে তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
























