ধর্মনগর, ১ অক্টোবর: পুজোর চাঁদার নামে রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি আটকে টাকা আদায় না করার জন্য প্রশাসনের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ফের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠল ধর্মনগরে। এবার অসম থেকে আগরতলাগামী একটি পণ্যবাহী গাড়ি আটকে ৫ হাজার টাকা পুজোর চাঁদা দাবি, চালককে মারধর এবং গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে চন্দ্রপুর এলাকার একটি স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অসমের নওয়াগাঁও থেকে কাঁচামরিচ বোঝাই করে আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল এএস ০২ – ইসি – ৪৮১৮ নম্বরের একটি বোলেরো পিকআপ গাড়ি। রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ গাড়িটি ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন সদস্য সেটি আটকে দেন বলে অভিযোগ। এরপর গাড়ির চালক ফারুক হোসেনের কাছে দুর্গাপূজার চাঁদা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
চালক ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চালক ও ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁকে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িটি আটকে থাকায় পণ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চালক। তাঁর বক্তব্য, গাড়িতে থাকা কাঁচা মরিচ দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার কারণে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর চালক ফারুক হোসেন ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গোটা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পুজোর চাঁদার নামে রাস্তায় যানবাহন আটকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ধর্মনগরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক নির্দেশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে গাড়ি আটকে টাকা দাবি, চালককে মারধর এবং গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। ধর্মনগর পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে। এখন দেখার, এই ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পুজোর মরশুমে পণ্যবাহী যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।



















