আগরতলা, ১ অক্টোবর: মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি এবং অ্যাপ-ভিত্তিক উবের অটো পরিষেবায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন দপ্তর। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর থানার পুলিশ। পাশাপাশি, যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্ত অটোচালক ও গাড়ির মালিকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবহন দপ্তর।
পরিবহন দপ্তরের জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে যাত্রীদের একটি অনুমোদিত অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন পরিষেবা গ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারের বক্তব্য, যাত্রীদের নিরাপদ, সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও পছন্দসই পরিবহন পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পরিপন্থী এই ধরনের ঘটনা। কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমিতি বা পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বৈধ পরিবহন পরিষেবায় বাধা সৃষ্টি করার কিংবা যাত্রীদের হয়রানি করার অধিকার নেই।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে আগরতলার এমবিবি বিমানবন্দরে অ্যাপ-ভিত্তিক উবার অটো পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। সেই সময়ই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই পরিষেবার কার্যক্রমে বাধা দিতে পারবেন না। যাত্রীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বৈধ পরিবহন পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু এর মধ্যেই পরিষেবা পরিচালনায় বাধা এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বিমানবন্দর থানার পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পরিবহন ও পুলিশ দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ দল এমবিবি বিমানবন্দর, ঘটনাস্থল এবং বিমানবন্দর থানা পরিদর্শন করে। তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
পরিবহন দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত অটোচালক ও গাড়ির মালিকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কার্যকর করা হবে।
এমবিবি বিমানবন্দরে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং যাত্রীদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব ও অটো পরিষেবার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে কোনও ভয়ভীতি, হুমকি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে নিজেদের পছন্দের বৈধ পরিবহন পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পরিবহন দপ্তর।
বিমানবন্দরে কোনও ধরনের অননুমোদিত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দপ্তর। সমস্ত পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারী এবং চালক সংগঠনকে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
———



















