News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • শচীন দেববর্মনের জীবন ও সংগীতসাধনা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার: মুখ্যমন্ত্রী
Image

শচীন দেববর্মনের জীবন ও সংগীতসাধনা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১ অক্টোবর: কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শচীন দেববর্মনের জীবন, সংগ্রাম ও সংগীতসাধনা আজকের প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বুধবার আগরতলার রবীন্দ্রশতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত শচীন দেববর্মনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শচীন দেববর্মনের অবদান সম্পর্কে এখনও অনেকের মধ্যে যথেষ্ট পরিচিতি তৈরি হয়নি। তাই তাঁর জীবন, কর্ম ও সংগীতসাধনাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা সকলের দায়িত্ব। তিনি বলেন, যে স্থানে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছে, সেটি শচীন দেববর্মনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। সরকার এই স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই স্থানেই তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা এবং জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা সকলের জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার মতো একটি ছোট রাজ্যে শচীন দেববর্মনের জন্মগ্রহণ রাজ্যবাসীর জন্য গর্বের। তিনি ছিলেন ত্রিপুরার একজন সুসন্তান। তাঁর জীবন ও কর্মের সঙ্গে ত্রিপুরার ইতিহাস ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

শচীন দেববর্মনের সংগীতজীবনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর পিতা নবদ্বীপ চন্দ্র দেববর্মন নিজেও সংগীত, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই শচীন দেববর্মনের মধ্যে সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। তাঁর প্রাথমিক সংগীতশিক্ষার অন্যতম প্রধান উৎস ছিলেন তাঁর পিতা।

বাংলার প্রকৃতি, নদী-নালা, গ্রামীণ জীবন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং মাটির মানুষের গানের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসংগীত অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনে তার সুর ও অনুভূতিকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে সেই অভিজ্ঞতা তাঁর সংগীতসৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শচীন দেববর্মনের মধ্যে প্রবল আত্মনির্ভরতার মানসিকতা ছিল। অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের সামর্থ্য ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিশ্বাস তাঁর মধ্যে ছিল। পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য, বৈভব ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি আরাম-আয়েশের জীবন বেছে নেননি। সংগীতকেই জীবনের পথ হিসেবে বেছে নিয়ে নিজের শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

তিনি বলেন, প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যের প্রতি অটুট নিষ্ঠা সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শচীন দেববর্মনের জীবন থেকে বর্তমান প্রজন্মকে এই শিক্ষাই নিতে হবে।

শচীন দেববর্মনের সংগীতজীবনের বিভিন্ন মাইলফলক তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯২৬ সালে কলকাতার বেতারে তিনি প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর ১৯৩২ সালে তৎকালীন এইচএমভি থেকে তাঁর গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে এইচএমভিতে গান রেকর্ড করার সুযোগ পাওয়াই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরবর্তীকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি এবং হিন্দুস্তান রেকর্ডসের মাধ্যমেও তাঁর গান রেকর্ড করা হয়।

১৯৩৬ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘রাগিনী’-তে প্রথম গান করার পর একের পর এক চলচ্চিত্রে নিজের সংগীতপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন শচীন দেববর্মন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শচীন দেববর্মন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই কঠিন সময়ে তাঁর সংগীত সাহস ও প্রেরণার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে শচীন দেববর্মন যে সংগীতের মূর্ছনা সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও কালজয়ী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গীতে, অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য এবং রাজ্য সংস্কৃতি উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে শচীন দেববর্মন সংগীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সংগীত পরিবেশন করেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা শচীন দেববর্মনের মর্মরমূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

Releated Posts

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে কংগ্রেসের গণ অবস্থান

আগরতলা, ১ অক্টোবর: ভোট চুরি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার…

ByByTaniya Chakraborty Oct 1, 2026

নাবালিকাকে চার মাস চাইল্ড কেয়ার হোমে আটকে রাখার অভিযোগ, বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ উচ্চ আদালতের

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: গণ্ডাছড়ার এক নাবালিকাকে প্রায় চার মাস ধরে বেআইনিভাবে চাইল্ড কেয়ার হোমে আটকে রাখার অভিযোগে হস্তক্ষেপ…

ByByReshmi Debnath Sep 30, 2026

ভোপাল বিমানবন্দরে বিপ্লব কুমার দেবকে স্বাগত জানালেন বিজেপি নেতৃত্ব

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: মধ্যপ্রদেশ সফরে গিয়ে ভোপাল বিমানবন্দরে পৌঁছালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।…

ByByReshmi Debnath Sep 30, 2026

দুর্ঘটনাগ্রস্তদের জীবন বাঁচিয়ে ‘রাহবীর’ সম্মান পেলেন ৮ জন

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আটজন ‘রাহবীর’…

ByByTaniya Chakraborty Sep 30, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top