আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: গণ্ডাছড়ার এক নাবালিকাকে প্রায় চার মাস ধরে বেআইনিভাবে চাইল্ড কেয়ার হোমে আটকে রাখার অভিযোগে হস্তক্ষেপ করল ত্রিপুরা উচ্চ আদালত। নাবালিকার বাবার দায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাওয়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে বুধবারের মধ্যে নাবালিকাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাবালিকার পক্ষে সওয়াল করা বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ।
পাশাপাশি, নাবালিকাকে এভাবে আটক করে রাখার জন্য দায়ী আধিকারিকদের জরিমানা করার দাবিও জানানো হয়েছে আদালতে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জানা গেছে, ধলাই জেলার গণ্ডাছড়ার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে গত ২৩ মে জেলা শিশু কল্যাণ আধিকারিকের হেফাজতে নেওয়া হয়। ধলাইয়ের জেলাশাসক এবং গণ্ডাছড়ার মহকুমাশাসকের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরবর্তীতে নাবালিকার বাবা তাঁর মেয়েকে মুক্ত করার দাবিতে ত্রিপুরা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেন। সোমবার মামলাটির প্রথম শুনানি হয়। সেই সময় প্রধান বিচারপতি এম রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে নোটিস জারি করে।
বুধবার মামলাটি ফের শুনানির জন্য ওঠে। শুনানির পর আদালত সমাজকল্যাণ দপ্তর পরিচালিত আগরতলার অভয়নগর এলাকার সুরক্ষিত আবাসন থেকে নাবালিকাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে জানান নাবালিকার পক্ষে সওয়াল করা বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ।
আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণের দাবি, নাবালিকাকে প্রায় চার মাস ধরে হেফাজতে রাখার বিষয়টি আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নাবালিকার বাবা আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়েকে হেফাজত থেকে মুক্ত করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে নাবালিকাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা রেখে হেফাজতে রাখার জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। তাঁর দাবি, এই সময়কালে নাবালিকা বাবা-মায়ের যত্ন, ভালোবাসা ও সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে। সেই শুনানিতে নাবালিকাকে হেফাজতে রাখার কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে আদালতে আরও শুনানি হতে পারে।



















