আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: উদ্ভাবন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার আগরতলার উইমেন্স কলেজে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’, ‘মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা’ -এর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের কার্যক্রম এবং ‘ডিজি-স্যাপনে ৩.০’-এর উদ্বোধন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে এই তিন উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রস্তাব রয়েছে। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার গোয়েল, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ কুমার সিংহ, ত্রিপুরা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের পরিচালক জেয়া রাগুল গেশান বি এবং সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোপালকৃষ্ণ প্রভু-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবে ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক সমস্যা চিহ্নিত করে যুবক-যুবতী, ছাত্রছাত্রী, স্টার্টআপ, উদ্ভাবক, গবেষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তথ্য ও সংস্কৃতি, উচ্চশিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বশাসিত সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২ থেকে ৫টি করে সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে এই চ্যালেঞ্জগুলি একত্রিত করে ‘টি-রাইজ’ পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১৫ থেকে ২০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি উদ্ভাবনী সমাধান পাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত সমাধানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে পরামর্শ, ইনকিউবেশন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২০ সালে চালু হয় ‘মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা’ বা এমওয়াইওয়াইওয়াই। তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কলেজ, প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের শেষ বর্ষের যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের স্মার্টফোন কেনার জন্য এককালীন সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ৬৩,২৪৯ জন ছাত্রছাত্রী উপকৃত হয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ৩১.৬২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চলতি অর্থবর্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি ডিগ্রি কলেজ, প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের স্নাতক পড়ুয়ারা প্রকল্পের আওতায় আসবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলিকে এগিয়ে নিতে ‘ডিজি-স্যাপনে ৩.০’ চালু করা হচ্ছে। এআইসি-এসএমইউ টেকনোলজি বিজনেস ইনকিউবেশন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সহযোগিতায় এই স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেশন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এর প্রথম সংস্করণ ২০২১ সালের মে মাসে চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘ডিজি-স্যাপনে ২.০’-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্য থেকে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপকে নির্বাচিত করা হয়। দ্বিতীয় সংস্করণে নির্বাচিত ১০টি স্টার্টআপকে প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়, যার মধ্যে ত্রিপুরার দুটি স্টার্টআপও ছিল।
এবার ‘ডিজি-স্যাপনে ৩.০’-এর আওতায় নির্বাচিত স্টার্টআপগুলির জন্য সর্বোচ্চ ২.৪ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান, তিন মাসের গ্রোথ হ্যাক কর্মসূচি, শিল্পক্ষেত্রের পরামর্শ ও অ্যাক্সিলারেশন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ডেমো ডেতে অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে।
তিনটি উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজের উদ্ভাবনী প্রতিভাকে কাজে লাগানো, শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানো, নাগরিককেন্দ্রিক সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান এবং স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পর্যায়ের অংশীদারদের সমন্বয়ে ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি উদীয়মান উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।



















