আগরতলা, ১ অক্টোবর: ভোট চুরি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে গণ অবস্থান সংগঠিত করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সেবা দল। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, গোপাল চন্দ্র রায়-সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরায় নির্বাচনের পরিবেশ ক্রমশ নষ্ট হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের সময় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয় এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়। সাহস করে ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের উপর হামলা ও ভোটের আগে-পরে তাঁদের হেনস্তারও অভিযোগ তোলা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে শাসক দলের লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীরা সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে এবং ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে। দলের নেতারা দাবি করেন, পঞ্চায়েত, এডিসি, ভিলেজ কাউন্সিল থেকে শুরু করে লোকসভা নির্বাচন, কোনও নির্বাচনেই প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি।
মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলগুলির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে তাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং অবৈধ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এদিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আইনি দায়বদ্ধতার বাইরে রাখার অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও দাবি করেন তাঁরা।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্যে ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বেকার সমস্যা, সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত বিষয় এবং বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগও উঠে আসে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষিত বেকাররা নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ছেন। বিরোধী দলগুলির কর্মসূচিতেও প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


















