আগরতলা, ১ অক্টোবর: সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মিছিল করে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করল ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। রাজ্যের গরিব ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্মসংস্থান, আর্থিক সংকট নিরসন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যের পাহাড়ি ও সমতল—উভয় এলাকার গরিব মানুষ বর্তমানে কর্মসংস্থানের অভাব এবং আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কাজের সুযোগ না থাকায় বহু পরিবার চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। অথচ কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া মানুষের দুর্দশা লাঘবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের নেতাদের দাবি, কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে রাজ্যের দরিদ্র পরিবারগুলির জীবনযাপন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় কাজের অভাবের ফলে বহু পরিবার চরম আর্থিক অনটনের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে দাবি জানান তাঁরা।
এদিনের কর্মসূচিতে রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলির বেহাল অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান বজায় না রাখার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
শুধু জাতীয় সড়ক নয়, রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ বলে দাবি সংগঠনের। এর ফলে সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রাস্তা নির্মাণের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাত দফা দাবির মাধ্যমে রাজ্যের দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিগুলি দ্রুত পূরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।


















