নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে আমেরিকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি প্রায় ৭.৫৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির পর বাংলাদেশ আমেরিকা থেকে বিভিন্ন পণ্য কেনা বাড়ালেও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এখনও দেখা যায়নি বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিক্কেই এশিয়া-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত থাকায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পোশাক শিল্প থেকে আমেরিকায় রফতানি বৃদ্ধির গতি কমেছে। চুক্তির পর বাংলাদেশ বোয়িং বিমান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং খাদ্যশস্য কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।
মার্কিন পোশাক আমদানি সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ আমেরিকায় ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪.৯৬ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি দেশ আমেরিকার বাজারে পোশাক রফতানি বাড়াতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের সমস্যা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বাজার থেকে সরে আসা কিছু রফতানি-অর্ডার বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় আকর্ষণ করতে পারেনি। অন্যদিকে ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমেরিকার বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের ওপর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির চাপও বাড়ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম, মজুরি, সুদের হার এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে শিল্পমহলের হিসাব।
রফতানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের সামান্য পার্থক্যও ক্রেতাদের অন্য দেশের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আমেরিকার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



















