মেহসানা, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): অবৈধ অভিবাসনপথে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ইথিওপিয়ায় নিখোঁজ হওয়া গুজরাটের তিন বাসিন্দা দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, রুতভিক জানসারি, মমতা চাভদা এবং ময়ূরী মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে মেহসানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
লঙ্ঘনাজ থানার পুলিশ পরিদর্শক অঙ্কুশ গেহলট আইএএনএসকে জানান, “বিদেশ মন্ত্রক এবং অন্যান্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও সমন্বয়ে আজ ভোর ৩টের দিকে তাঁরা মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। তাঁরা তাঁদের শহর মেহসানার দিকে রওনা দিয়েছেন।”
পুলিশের দাবি, তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় ‘বাবা খান নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রুতভিক, মমতা ও ময়ূরী গুজরাট থেকে রওনা দিয়েছিলেন। আমেরিকায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এজেন্টদের তাঁরা কয়েক দশক লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। জয়পুর ও আবুধাবি হয়ে তাঁরা ইথিওপিয়ায় পৌঁছন। ২২ সেপ্টেম্বরের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর মমতার বাবা কিরিট চৌহান লঙ্ঘনাজ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, মমতার স্বামী চিরাগকুমার প্রায় ছয় মাস আগে ছাত্র ভিসায় আমেরিকায় গিয়েছিলেন। মমতা ছয়বার আমেরিকার ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর পরিবার অবৈধ পথে তাঁকে আমেরিকায় পাঠানোর জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে পরিবার জিতুভাই নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি তাঁদের মেহসানার এজেন্ট আলপেশ প্যাটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরে আলপেশ তাঁদের বরোদার ভার্গব প্যাটেলের সঙ্গে যুক্ত করেন। প্রত্যেকের জন্য যাত্রার খরচ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও এর আগে পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রত্যেকের জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা এজেন্টদের দেওয়া হয়েছিল।
ইথিওপিয়ায় পৌঁছনোর পর ‘খান’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনজনের মুক্তির বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। রুতভিকের দাদু কানুভাই জানসারি দাবি করেছিলেন, তিনজনকে জিম্মি করার পর ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও এক কোটি টাকার দাবি অব্যাহত ছিল।
তিনজনের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য পরিবারের সদস্যরা পরে সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। অবৈধ অভিবাসনপথে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টাকে ঘিরে গুজরাটের বাসিন্দাদের জড়িত থাকার এটি সর্বশেষ ঘটনা।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে গান্ধীনগর জেলার ডিংগুচা গ্রামের একই পরিবারের চার সদস্য কানাডা থেকে আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করার সময় তীব্র ঠান্ডায় জমে মারা যান। ২০২৩ সালে মেহসানার একটি পরিবার একই ধরনের চেষ্টার সময় সেন্ট লরেন্স নদীতে ডুবে যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মেহসানার একটি পরিবারও মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করার সময় ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ডুবে যাওয়া একটি নৌকায় ছিল।
অপহরণ, মুক্তিপণের দাবি এবং তিনজনের যাত্রার ব্যবস্থা করা এজেন্টদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



















