আগরতলা, ১ অক্টোবর: আচমকা আইজিএফ চৌমুহনীস্থিত ড. বি. আর. আম্বেদকর মেমোরিয়াল ছাত্রাবাস এবং জগন্নাথবাড়ির এসসি ছাত্রীবাস পরিদর্শন করলেন ত্রিপুরার তফসিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস। আজ এই পরিদর্শনে তিনি হোস্টেলগুলির পরিকাঠামো, আসন অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, হোস্টেলগুলিতে অনুমোদিত আসনসংখ্যার তুলনায় বাস্তবে কতজন ছাত্রছাত্রী থাকছেন এবং তাঁরা সরকারের বরাদ্দ করা সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করতেই এই পরিদর্শন।
তিনি বলেন, সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়েছে। তফসিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে এবং একটি মুক্তাঙ্গন ব্যায়ামাগারও তৈরি করা হয়েছে। সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারও পরিদর্শন করা হয়েছে।
জগন্নাথবাড়ির ছাত্রী হোস্টেল পরিদর্শনের সময় ছাত্রীরা খাবারের মান এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রশিক্ষকদের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ জানান। মন্ত্রী বলেন, অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোস্টেলের পানীয় জলের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে জলে অতিরিক্ত লোহার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরের মাধ্যমে লোহা অপসারণের যন্ত্র বসানো হয়েছে।
মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, লোহা অপসারণের যন্ত্র বসানোর পরও যদি জলে লোহার উপস্থিতি থাকে, তাহলে তার কারণ কী। এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরাই সঠিকভাবে বলতে পারবেন বলে জানান তিনি। যন্ত্রটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি এসডিও এবং ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত হোস্টেল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরের একজন কার্যনির্বাহী আধিকারিক হোস্টেলটি পরিদর্শন করবেন। দ্রুত পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগের তুলনায় পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এর আগে কয়েকজন কর্মীর দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের সরিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বচসার পর রান্নার কাজে যুক্ত কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, অভিযুক্ত কর্মীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং তাঁদের অন্য একটি হোস্টেলে বদলি করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন। কেউ নিজের ভুল স্বীকার করলে তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে ভবিষ্যতে আবার কোনও ধরনের অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























