নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): দেশের প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রণে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ বাড়ানোর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ৩.০ চালু করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বর্তমানে প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রণে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ প্রায় ৬ শতাংশ। পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডের ২০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, পিএনজিআরবি, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে এলপিজি থেকে পিএনজিতে স্থানান্তর উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন পরিকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় সংযোগ সক্রিয় করা, সেমি-আরবান ও গ্রামীণ এলাকায় পিএনজি সম্প্রসারণ এবং নতুন গ্রাহকদের সংযুক্ত করাও অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশে ইতিমধ্যে ৬,৮৭,৯৬৬ ইঞ্চি-কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও ১ কোটি ৩০ লক্ষ সংযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। পিএনজি ড্রাইভ ৩.০-তে ৫০ লক্ষ নতুন গার্হস্থ্য পিএনজি সংযোগ, ৪০ লক্ষ নিষ্ক্রিয় সংযোগকে সক্রিয় গ্রাহকে পরিণত করা এবং আরও ৫০ লক্ষ গার্হস্থ্য পিএনজি রেজিস্ট্রেশনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এর আগে পিএনজি ড্রাইভ ২.০-র আওতায় ১২.১০ লক্ষ সংযোগ, ১৩.৩৭ লক্ষ বিলযুক্ত সংযোগ এবং ১৫.৩১ লক্ষ ডোমেস্টিক পিএনজি রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। সেই পর্যায়ে দৈনিক নতুন ডোমেস্টিক পিএনজি সংযোগ ৪৩ শতাংশ এবং বিলযুক্ত গ্রাহক সংযোজন ১৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
দেশজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে পিএনজিআরবি প্রায় ৩৪,২৩৩ কিলোমিটার ন্যাচারাল গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ২৫,৪২৯ কিলোমিটার চালু হয়েছে এবং ১০,৪৫৯ কিলোমিটার পাইপলাইন বিভিন্ন নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে।
‘এক দেশ, এক গ্যাস গ্রিড’ গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ট্রাঙ্ক পাইপলাইন অনুমোদন, কম চাহিদার এলাকায় ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং, অভিন্ন শুল্ক ব্যবস্থা, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামে গ্যাস সরবরাহ উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সিএনজি ও পিএনজির ব্যবহার বাড়লে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা মিলবে।
_______



















